নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) রাজস্ব কর্মকর্তা ( অ্যাসেসর) পদে যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নিজেকে বসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কর নির্ধারণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নিজেই ফাইল তৈরি করে তৎকালীন মেয়রের অনুমোদন নিয়ে অবৈধভাবে ওই পদে আসীন হন তিনি। বিষয়টি নিয়ে বিসিসিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৭ এপ্রিল শূন্য থাকা অ্যাসেসর পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। বিজ্ঞপ্তিতে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনে সংশ্লিষ্ট শাখায় কমপক্ষে পাঁচ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়।
ওই পদের জন্য আবেদন করেন বাজার কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম। তবে যাচাই-বাছাই কমিটির প্রথম বৈঠকেই শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকায় তার আবেদন বাতিল করা হয়। এ সংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর করেন নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল বারী।
তিনি বলেন, “কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সে ওই পদের জন্য যোগ্য ছিল না। তার প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতায় ঘাটতি ছিল। এজন্য প্রথম সভাতেই আবেদন বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে তাকে কোনো লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষায়ও ডাকা হয়নি।”
অভিযোগ রয়েছে, আবেদন বাতিল হওয়ার কয়েক মাস পর একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর নতুন কৌশল নেন নূরুল ইসলাম। যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ার অজুহাতে নিজেই একটি ফাইল প্রস্তুত করে তৎকালীন মেয়রের অনুমোদন নেন। সেখানে নিজেকে চিফ অ্যাসেসর পদের উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করে পরীক্ষা ছাড়াই ওই পদে বহাল হন তিনি।
ভুক্তভোগী মিথুন সাহা বলেন, “লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা কিংবা নিয়োগ কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়াই তৎকালীন মেয়রকে ভুল বুঝিয়ে একটি অবৈধ আদেশের মাধ্যমে তিনি চিফ অ্যাসেসর পদে বসেন।”
এ ঘটনায় বাবুল হাওলদার বলেন, “নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্তের ব্যত্যয় ঘটিয়ে তৎকালীন মেয়রের একক আদেশে এটি করা হয়েছে। পাশাপাশি তথ্য গোপন ও জালিয়াতির বিষয়ও উঠে এসেছে।”
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম। তার দাবি, “এখানে কোনো তথ্য গোপন বা জালিয়াতির ঘটনা ঘটেনি। কর্তৃপক্ষ আইনগত ও প্রশাসনিক সব দিক বিবেচনা করেই আমাকে পদোন্নতি দিয়েছে।”
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং বড় ধরনের অনিয়ম। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অবৈধ নিয়োগ বাতিলসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিসিসির প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।