নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল :
বরিশাল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) বাইরে বাসা ভাড়া করে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রটির অতিথি ইংরেজি শিক্ষক শিহাব উর রহমান গাজীর বিরুদ্ধে। নথুল্লাবাদ এলাকায় বাসা ভাড়া করে সেখানে সৌদি গমনেচ্ছু যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে টিটিসি কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র বরিশাল টিটিসি ক্যাম্পাসের বাইরে পৃথকভাবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা করে বিদেশগামী যাত্রীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করে আসছে। এর ফলে বিদেশগামী সাধারণ যাত্রীরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
টিটিসি সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবগামী কর্মীদের জন্য তাকামুল/এসভিপি (SVP) পরীক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ছিল। বিষয়টি বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) কর্তৃপক্ষের নজরে এলে বরিশাল টিটিসিতে তাকামুল পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানতে টিটিসি কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়।
এরপর থেকে টিটিসির অধ্যক্ষ গোলাম কবির সংশ্লিষ্ট চক্রের সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন বলে জানা গেছে। তবে দীর্ঘ সময়েও পুরো চক্রের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
এদিকে গত ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে টিটিসির অতিথি ইংরেজি শিক্ষক শিহাব উর রহমান গাজীকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হতে দেখতে পান অধ্যক্ষ গোলাম কবির। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি টিটিসির আরও দুইজন ইন্সট্রাক্টরকে সঙ্গে নিয়ে তার পিছু নেন বলে জানা গেছে।
পরে নগরীর শেরে বাংলা সড়কের একটি ভবনের সামনে শিহাবের মোটরসাইকেল দেখতে পান তারা। অধ্যক্ষ ও সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা ভবনের সামনে অবস্থান নিলে বিষয়টি টের পেয়ে শিহাব উর রহমান কাজী পেছনের দিক দিয়ে দেয়াল টপকে মোটরসাইকেল রেখে চলে যান বলে টিটিসি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
টিটিসি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ওই ভবনেই সৌদি গমনেচ্ছু যাত্রীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে ভবনটির সুনির্দিষ্ট ব্যবহার, প্রশিক্ষণ নেওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়ে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অতিথি ইংরেজি শিক্ষক শিহাব উর রহমান গাজীর বলেন হিমু নামের এক স্টুডেন্ট তার কাছে বাইক চাইলে তাকে বাইক দিয়ে দেয়।তবে ও প্রশিক্ষণ সেন্টারের সাথে তিনি জড়িত নন।তবে সেন্টারের ভিতর থেকে আটক করা ছাত্র হিমুর বক্তব্যর সাথে শিক্ষক শিহাব উর রহমান গাজীর বক্তব্যর কোন মিল পাওয়া যায়নি,বরং নিজেকে বাচানোর জন্যই মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন।
এ বিষয়ে অধ্যাক্ষ্য প্রকৌশলী গোলাম কবীর জানান বৃহস্পতিবার রাতে শেরে বাংলা সড়কের একটি ভবনে শিক্ষক শিহাব উর রহমান গাজীকে আমরা হাতে নাতে ধরি।সেখানে প্রথমিক কিছু প্রমান পাওয়া গেলেও এই সিন্ডিকেটের মূল রহস্য বের করার জন্য ইন্সট্রাক্টর খান মাববুব হোসেন কে আহবায়ক করে ৬ সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হলেই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।
টিটিসির বাইরে অনুমোদনহীনভাবে বিদেশগামীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে বিএমইটি কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।