বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি:
ল্যাপটপ ও বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করে রোগ নির্ণয়ের দাবি, ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসক পরিচয় এবং ভুয়া সনদ দেখিয়ে চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগে আলীমুল ইসলাম (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কলেজ গেট এলাকার একটি ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে জরিমানা করা হয়। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী ও কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার কলেজ গেট এলাকার এনএমএস ফার্মেসিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা। অভিযানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) তামিম মল্লিক ও মেডিকেল অফিসার তূর্য অধিকারী উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আলীমুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল সদর, উজিরপুর ও বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রোগী দেখে আসছিলেন। বাবুগঞ্জের মাধবপাশা বাজার ও বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ গেট এলাকায়ও তিনি নিয়মিত রোগী দেখতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ল্যাপটপ ও বিশেষ ডিভাইসে হাত রেখে বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ের দাবি করে তিনি চিকিৎসাসেবা দিতেন।
চোখের সমস্যা ও মাথাব্যথা নিয়ে চিকিৎসার খোঁজ করতে গিয়ে সালেহা বেগম নামের এক নারীও তাঁর কাছে চিকিৎসা নেন। এক দালালের মাধ্যমে ওই ব্যক্তির কথা জানতে পেরে তিনি সেখানে যান। তবে পরে জানতে পারেন, চিকিৎসক পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তির যোগ্যতা ও কাগজপত্র নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, আলীমুল ইসলাম নিজের ব্যবস্থাপত্রে নামের আগে ‘ডা.’ লিখে চিকিৎসক পরিচয় দিতেন। ব্যবস্থাপত্রে এমবিইএইচ (ভারত), ডিএমএফ (ঢাকা) এবং কলকাতার এনআরএস মেডিকেল কলেজে প্রশিক্ষণ নেওয়ার তথ্য উল্লেখ ছিল। এ ছাড়া মেডিসিন, চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জিজনিত রোগের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ বলেও দাবি করতেন তিনি।
তবে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে সেগুলো ভুয়া বলে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। চিকিৎসক হিসেবে বৈধ যোগ্যতার কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাঁর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার তূর্য অধিকারী বলেন, খবর পেয়ে ইউএনওর সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে আলীমুল ইসলামের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। তাঁর দেখানো কাগজপত্র ভুয়া বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। চিকিৎসার নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে স্বাস্থ্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, চিকিৎসক না হয়েও চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। আলীমুল ইসলাম চিকিৎসক পরিচয় ব্যবহার করলেও বৈধ যোগ্যতার কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। প্রায় ১৫ বছর ধরে এভাবে রোগী দেখানোর বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন বলে জানান ইউএনও।
তিনি আরও বলেন, তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো কার্যক্রমে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি। এ সময় চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডিভাইস ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, আলীমুল ইসলাম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাহেরঘাট এলাকার আব্দুল আলী হাওলাদারের ছেলে।
চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ক্ষেত্রে সঠিক যোগ্যতাসম্পন্ন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসকের নিবন্ধন ও যোগ্যতা যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।