স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কের রুপাতলী এলাকায় বাংলাদেশ বেতার রেডিও সেন্টার ও র্যাব-৮ কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে বলা হয়, “ঢাকা মেট্রো-উ-১১-৭৬৩৭” নম্বরের আনসার বাহিনীর একটি সরকারি গাড়ি বেপরোয়া গতিতে চলাচলকালে একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিরাজুল ইসলাম (৫৮)। এতে মোটরসাইকেলে থাকা ১১ বছর বয়সী এক শিশু ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। শিশুটির মা গুরুতর আহত হন এবং মোটরসাইকেল চালকও আহত হন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দুর্ঘটনার পর প্রথমদিকে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ তিন মাসেও সুষ্ঠু তদন্ত কিংবা দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বিষয়টি আনসার বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হলেও তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। বরং আর্থিক সহায়তা, কর্মসংস্থানের আশ্বাস ও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত চালক সিরাজুল ইসলাম মামলা নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন। এমনকি প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও করেছেন তিনি। এ ঘটনায় বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিকরা অভিযুক্ত চালক সিরাজুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর না দিয়ে উল্টো অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে আনসার বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর শোকাহত অবস্থায় তাদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, দায়িত্বশীল বাহিনীর যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে তারা নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ভুক্তভোগী পরিবারের আকুতি, “আমরা শুধু সুষ্ঠু বিচার চাই। একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ চলে গেছে, একজন মা আজও কষ্টে আছেন। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো বিচার পাইনি।”