বরিশাল নগরীতে একটি মাদ্রাসার শিক্ষকদের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে এ.বি.এম আতিমুল হোসেন নামে এক ছাত্র নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। সন্তানকে খুঁজে না পেয়ে পাগলপ্রায় হয়ে পড়েছেন তার বাবা-মা। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি আতিমুলের।
নগরীর সিএন্ডবি রোডের খালপাড় সড়কের সুমাইতা ভবনের ৪র্থ ও ৫ম তলায় অবস্থিত জামেয়া কুরআনিয়া মাদ্রাসার কিতাব বিভাগের নাহবেশীর ছাত্র এ.বি.এম আতিমুল হোসেন গত ০৮ মে শুক্রবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। মাদ্রাসার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তাকে বের হতে দেখা গেলেও এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ উঠেছে, আতিমুল নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর, অর্থাৎ ১০ মে তার বাবা হাফেজ ফোরকানকে বিষয়টি জানায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিভাবকরা বলেন, “একজন ছাত্র তিনদিন ধরে নিখোঁজ থাকলেও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তা বুঝতে পারেনি—এটি চরম দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার পরিচয়।”
তারা আরও জানান, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করলে ছাত্র নিখোঁজের বিষয়টি তাৎক্ষণিক নজরে আসত এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ায় এখন আতিমুলকে খুঁজে পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন আতিমুলের বাবা-মা। এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন স্থানে ছুটে বেড়াচ্ছেন তারা। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। বারবার মাদ্রাসায় গিয়েও আশানুরূপ সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন আতিমুলের বাবা।
একটি সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও মাদ্রাসার পরিচালক যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেছেন আতিমুল হোসেনের বাবা হাফেজ ফোরকান। জিডি নম্বর- ১০৪২, তারিখ: ১৩ মে ২০২৬।
নিখোঁজ আতিমুল হোসেনকে খুঁজে পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন তার স্বজনরা।