বরিশাল নগরীর রূপাতলী এলাকায় পূর্ববিরোধ ও চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে মো. সাদ্দাম মোল্লা (৩২) নামে এক সিএনজি চালককে চাপাতি, লোহার রড ও পাইপ দিয়ে হামলা করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে কোতোয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী মাফুজা বেগম।
এ ঘটনায় সাদ্দামের স্ত্রী মাফুজা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে মো. শহিদ কাজী, শহিদুল ইসলাম টিটু, মো. ইমরান কাজী, জলিল উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, সুজন, চুন্নু সিকদার, মাসুম বিল্লাহ, আসিফ খান, রুম্মান, মিলন মোল্লা, সজল কাজী ও নুর আলম মল্লিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে বরিশাল নগরীর কোতোয়ালী মডেল থানাধীন ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের রূপাতলী কাঠালতলা এলাকার পাবেলের সিএনজি গ্যারেজের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সাদ্দাম মোল্লা ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন সিএনজি চালক।
অভিযোগে বলা হয়েছে, পূর্ববিরোধের জের ধরে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাদ্দাম মোল্লার ওপর হামলা চালান। এ সময় ১ নম্বর আসামি মো. শহিদ কাজী চাপাতি দিয়ে তার মাথায় কোপ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তার মাথায় গুরুতর জখম হয়। ৭ নম্বর আসামি চুন্নু সিকদারও চাপাতি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া ২ নম্বর আসামি শহিদুল ইসলাম টিটু লোহার পাইপ দিয়ে সাদ্দামের বাম পায়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তার পা ভেঙে গুরুতর জখম হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়। অন্য আসামিরা লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত এবং কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে তাকে জখম করেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
হামলার সময় সাদ্দামের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকে ভবিষ্যতে রাস্তায় পেলে খুন ও জখম করার হুমকি দিয়ে চলে যায় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহত সাদ্দামকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
হামলার বিষয়ে ভুক্তভোগী সাদ্দাম মোল্লা বলেন, আসামিরা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অনুসারী। পূর্বে তারা চাঁদা উত্তোলন করতো। ৫ আগস্টের পর এখন আর চাঁদা উত্তোলন ও কোনো অবৈধ সুবিধা না পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে থানায় দায়ের করা অভিযোগের আমি সাক্ষী হওয়ায় আমার ওপর হামলার আরেকটি কারণ এটা। আমি অপরাধীদের বিচার চাই।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়।
এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মামুন উল ইসলাম বলেন, অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও হামলার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।