বরিশাল সদর উপজেলার বিমানবন্দর থানাধীন ৯ নং ওয়ার্ড ষোলনা এলাকায় পৈতৃক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ অন্তত ৬ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় এক গৃহবধূকে ঘরে আটকে ধর্ষণের চেষ্টা ও শ্লীলতাহানির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
বর্তমানে আহতদের মধ্যে চারজন বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজ শনিবার ২৯ আগস্ট সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে ষোলনা এলাকার নিজ বাড়ির সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা হলেন— দীমা ইসলাম বৃষ্টি, তাঁর স্বামী রেদোয়ানুল ইসলাম, রেদোয়ানের ভাই জামাল হোসেন ইয়াসিন এবং রেদোওয়ানের মা রওশন আরা বেগম। এছাড়াও আহতদের মধ্যে রয়েছেন ইয়াসিনের স্ত্রী হিমেল এবং তাঁর ৫ বছর বয়সী শিশু পুত্র তাজ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই হামলা ও শ্লীলতাহানির নেপথ্যে মূল ইন্ধনদাতা মাস্টারমাইন্ড হিসেবে রয়েছেন।
চিকিৎসাধীন আহত গৃহবধূ দীমা ইসলাম বৃষ্টি জানান, পৈতৃক জমি নিয়ে আমাদের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী লকিতুল্লাহ শিকদারের বড় ভাই নুরুল আমিন শিকদার, হাবিব শিকদার ও জাহিদ শিকদারদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। আজ সকালে ফজরের নামাজের পর আমার স্বামী রেদোয়ান ও দেবর ইয়াসিনের ওপর প্রতিপক্ষরা হামলা চালায়। তাঁদের চিৎকার শুনে আমি, আমার শাশুড়ি ও জা ছুটে গেলে আমাদের ওপরও রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
বৃষ্টি আরও বলেন, আমাকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে ঘরের ভেতর নিয়ে গিয়ে দরজা আটকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়। ব্যর্থ হয়ে তারা আমার পরনের জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং বেদম মারধর করে। বাধা দেওয়ায় হাত ও শরীরে গুরুতর জখম করা হয়।
আহত রেদোয়ানুল ইসলাম জানান, আমরা পৈতৃক সূত্রে এই জমিতে বসবাস করে আসছি। সকালে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর প্রতিপক্ষ নুরুল আমিন শিকদার, হাবিব শিকদার, জাহিদ শিকদার, আবুল হোসেন, মনির হোসেন, নাসির খান ও মাসুদুর রহমান রানাসহ ১০-১২ জন লোক জমিতে জবরদখল করে খুঁটি গাড়তে শুরু করে। আমরা বাধা দিলে আমাদের ওপর একের পর এক হামলা চালানো হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আমার বৃদ্ধা মা, ভাই ও স্ত্রী বাধা দিতে এলে তাদেরকে দ্বারা নষ্ট দিয়ে কুপিয়ে পিটিয়ে আহত করেন । এমনকি আমার ৫ বছরের শিশু ভাইপো তাজের গলা ধরে আছাড় মারা হয়। হামলাকারীরা প্রকাশ্যে নারীদের ধর্ষণের দর্শনের হুমকি দিচ্ছে এবং আমার স্ত্রী বৃষ্টিকে দর্শনের চেষ্টাও চালিয়েছে এবং আমরা হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেও ফাঁকা বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালাচ্ছে। এমনকি ভিডিও ধারণ করার সময় দুটি মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় আহত পরিবারটি সরকার ও প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে।
এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ শাখাওয়াত হোসেন জানান, অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।