বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীনকে পদায়নের আদেশ বাতিলের দাবিতে স্বাস্থ্য ভবন ঘেরাও ও বিক্ষোভ করেছেন জুলাই আন্দোলনের পক্ষের চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারীরা।
বিক্ষোভকারীরা স্বাস্থ্য পরিচালকের কক্ষ অবরুদ্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং বিতর্কিত বলে দাবি করা এই পদায়ন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীন শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের উপপরিচালক থাকাকালে তৎকালীন পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগসাজশে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। তাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনার পরও ২ আগস্ট স্বাচিপের ব্যানারে আয়োজিত তথাকথিত “শান্তি সমাবেশ”-এর অন্যতম আয়োজক ছিলেন তিনি। এছাড়া স্বাচিপের ব্যানারে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা আরও দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের সময়ের ভূমিকার কারণে ডা. সাইফুল ইসলামের পাশাপাশি ডা. এস এম মনিরুজ্জামানকেও শেবাচিম থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। অথচ তাকে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের সিদ্ধান্তে জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংগঠন, বিএনপিসহ সংশ্লিষ্ট মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে ৭ আগস্ট ২০২৬ বরিশাল স্বাস্থ্য ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জুলাইযোদ্ধা ও ছাত্রনেতা প্রিন্স, উপস্থিত ছিলেন ডা. ফয়সাল আহমেদ, ডা ঈস্তিয়াক রিফাত, ডা রাকিবুল ইসলাম মনি, জুলাইযোদ্ধা ও কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন।
পরে আন্দোলনকারীরা স্বাস্থ্য ভবনে প্রবেশ করে পরিচালকের কক্ষ অবরুদ্ধ করেন এবং সেখানে তালা ঝুলিয়ে দেন।
আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ডা. এস এম মনিরুজ্জামানের পদায়নের আদেশ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীন বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।