নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশালের আমতলা মোড় এলাকায় এক বাসার ভাড়াটিয়াকে অভিনব কায়দায় ফাদে ফেলেছেন একটি প্রতারক চক্র। চক্রের মূল হোতা সৈয়দ আসিফ আহমেদ রাব্বি নিজেকে ডিসি অফিসের কর্মকর্তা দাবী করেন।
ভুক্তভোগী ওই ভাড়াটিয়া শেফালী বেগম জানান গত ৪ জুলাই শনিবার আমতলা মোড় এলাকার একটি ফ্ল্যাটে বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে এক লোক বাসা দেখতে আসেন। চার তলা বিশিষ্ট অই ফ্ল্যাটের নিচ তলায় ভাড়া থাকেন শেফালী বেগম নামের এক ভাড়াটিয়া,দীর্ঘ দিন ধরে তিনি অই বাসায় ভাড়া থাকেন বিধায় ভবনের মালিকের বিশ্বস্ত হয়ে যায়, তাই কেহ যদি ভাড়ার জন্য আসে সেটা দেখানোর দায়িত্ব তাকেই পালন করতে হয়।
সৈয়দ আসিফ আহমেদ রাব্বি নামের অই লোক ভাড়ার জন্য বাসা দেখতে আসলে শেফালী বেগম ভবনের ম্যানেজারকে সাথে নিয়েই বাসা দেখাতে যান।
বাসা দেখে আসিফ রাব্বি কালকে পরিবার নিয়ে আসবে তাই ফ্ল্যাট এবং গেটের চাবী দিতে বলেন, কিন্তু শেফালী বেগম সেটা দেননি।
চাবী না পাওয়ায় ভিন্ন্য প্রতারণার ছক করে শেফালী বেগম কে বলেন তিনি এখনো বেতন পাননি,ছোট শিশু না খেয়ে আছেন,তাই অল্প কিছু বাজার দরকার।শেফালী বেগমের মন নরম হয়ে গেলো, অই ফ্ল্যাটের পাশেই দুইটি দোকান থাকায় সেই দোকানে গিয়ে দোকানদারকে বলে দেন যা যা লাগবে দিয়ে দিতে।প্রতারক রাব্বি বড় একটা লিষ্ট বের করে এক দোকান থেকে ৩ হাজার টাকার বাজার নেন,সেখানে সব কিছু না পাওয়ায় অপর দোকান থেকে আরো ৫৩৩৫ টাকার বাজার নেন।অনেক টাকার লিষ্ট থাকলেও দোকানদার এত টাকার বাজার দিতে অস্বীকৃতি জানান।
দুই দুই দোকান থেকে ৮ হাজার টাকা বাজার নিয়ে চলে যাওয়ার পরে শেফালী বেগম অই দোকানে গিয়ে খোজ নিয়ে জানতে পারেন অনেক টাকার বাজার নিয়ে গেছে,তখন প্রতারক আসিফ রাব্বিকে কল দিলে কেটে দিয়ে মোবাইল বন্ধ করে রাখেন।
কিছুক্ষণ পরে এক দোকানদার সেই প্রতারককে রিক্সায় দেখে আটক করে। তখন আসিফ রাব্বি জামিনদার হিসেবে নগরীর গোরাচাদ দাস রোড এলাকার আওয়ামীলিগ নেতা সুমন প্যাদাকে কল দিয়ে আনেন।সুমন প্যাদা নিজেকে বাংলাবাজার স্বপ্ন সুপার শপের জমির মালিক এবং আসিফ রাব্বি তার
শালা হয় বলে পরিচয় দিয়ে প্রতারক কে ছারিয়ে নিয়ে যান।
তখন অই মহিলা শেফালী বেগম থানায় অভিযোগ করেন,এবং সাংবাদিকদের অবিহিত করলে সাংবাদিকরা সেখানে গিয়ে প্রতারক এবং তার জামিনদাতা সুমন প্যাদাকে কল দিলে নিউজের ভয়ে দোকানদারদের টাকা ফেরত দিয়ে যান একদিন পরে।
তবে মূল ঘটনা হচ্ছে প্রতারক সৈয়দ আসিফ আহমেদ প্রথমে ডিসি অফিসের কর্মকর্তা বলেন, আবার সাংবাদিকদের কাছে বলে এনজিও কর্মী ছিলেন,তার ঠিকানা জানতে চাইলে কখনো ঢাকা আবার কখনো মুলাদী বলেন।
এররকম প্রতারক চক্র বরিশাল নগরীতে সক্রিয় ভাবে ভিবিন্ন স্থানে প্রতারনা করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।এদের প্রশাসনের কাছে এমন প্রতারকদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যাবস্থা গ্রহন করার দাবী করেন নগরবসী।