1. admin@dailybarishalmukhopatro.com : admin-barishal :
  2. adminaminalamin@gmail.com : দৈনিক বরিশাল মুখপত্র : দৈনিক বরিশাল মুখপত্র
শিরোনামঃ
পরীক্ষা দিতে বেরিয়ে আর ফেরা হলো না যুথির! দুই দিন পর বাড়ির পাশের ডোবা থেকে মিলল ১৬ বছরের কিশোরীর নিথর দেহ সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ-সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ বরিশাল জেলা জামায়াতের নবনির্বাচিত আমীর ড. মাহফুজুর রহমানের শপথ গ্রহণ ;ইসলামী আন্দোলনের অগ্রযাত্রায় নেতৃত্বের আনুগত্য অপরিহার্য- এ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ পেলেন বরিশালের কারাতে কন্যা সাইফা আলিফা ; নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম আসরে সাফল্য, আনন্দে ভাসছে বরিশাল নূরে রাইয়ান ইলমুল কুরআন মাদ্রাসায় ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি শুরু ১ ডিসেম্বর দেড় মাসের শিশু উদ্ধার, এসআই রুহুল আমিনের নেতৃত্বে গ্রেপ্তার তিন নারী কারাগারে বাবুল মুহুরীর অডিও ভাইরাল ও সংবাদ সম্মেলন ‘এক টাকা আমার দিতে হবে’—বাবুল মুহুরীর অডিও ভাইরাল, আড়াল করতেই কি সংবাদ সম্মেলন? নগরীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জুলাই যোদ্ধার মৃত্যু, কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি দাবি এনসিপি মেয়রপ্রার্থীর! বরিশালের এআরএস মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি কার্যক্রম শুরু ২০০৮ সালের যুবদল নেতা এ্যালবার্ট রিপনকে আওয়ামী লীগের দোসর বানানোর অপচেষ্টা! সাংগঠনিক যোগাযোগ নিয়ে কার স্বার্থে অপপ্রচার?

সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ-সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক✍️
  • প্রকাশিত সময় শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২৮ বার পড়েছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা থেকে শুরু করে আইনি ও ডিজিটাল নানা ধরনের তীব্র ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে।সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

গত ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড়ে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনজন সাংবাদিক শারীরিক হামলার শিকার হন।

আক্রান্ত সাংবাদিকরা হলেন:
• আহমদ সোহান সিরাজী (স্টার নিউজ ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট)
• রায়ান বিন আমিন (একাত্তর টিভির সাভার প্রতিনিধি)
• মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেন (একাত্তর টিভির ক্যামেরা পারসন)

ঘটনার বিবরণ:
• সকালে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান এবং কিছু শ্রমিকের বক্তব্য নেন।
• পরে ফুটেজ নেওয়ার সময় আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে একদল মুখোশধারী ব্যক্তি তাদের ওপর লাঠিসোটা ও ইট নিয়ে হামলা চালায়।
• স্থানীয় কয়েকজন মানুষের হস্তক্ষেপে তারা রক্ষা পান। সাভার মডেল থানার পুলিশ এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন কর্তৃক জাতীয় দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকা প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও প্রতিক্রিয়া:

• ঘটনা: তাকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের জেরে গত শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক লাইভে এসে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার একটি কপি ছিঁড়ে ফেলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন।

প্রকাশ্যে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ। সংগঠনটি বলেছে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির এমন আচরণ স্বাধীন গণমাধ্যম, মতপ্রকাশের অধিকার ও গণতান্ত্রিক সহনশীলতার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।

এক বিবৃতিতে সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভূইঁয়া জানায়, প্রকাশিত সংবাদ, সম্পাদকীয় অবস্থান কিংবা রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সঙ্গে কারো দ্বিমত বা আপত্তি থাকতেই পারে। গণতান্ত্রিক সমাজে সেই দ্বিমত প্রকাশ, সমালোচনা ও প্রতিবাদের অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে। তবে মতপার্থক্য প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখা জরুরি।

সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির প্রকাশ্যে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা দায়িত্বশীল আচরণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো সংবাদমাধ্যমের বক্তব্য বা অবস্থানের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে তা যুক্তি, তথ্য ও পাল্টা বক্তব্যের মাধ্যমে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করার অধিকারও সবার রয়েছে। তবে কোনো পক্ষেরই এমন আচরণ করা উচিত নয়, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে সংকুচিত করে।

সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভূইঁয়া আরও জানায়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকা নয়; বরং স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ, মতামত তুলে ধরা এবং সমালোচনার জবাব দেওয়ার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকেও সংযত ও গণতান্ত্রিক আচরণ প্রত্যাশিত।

বিবৃতিতে ,সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মির্জা সোবেদ আলী রাজা বলেছেন, গণমাধ্যমের কোনো প্রতিবেদনে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে প্রতিকার পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।এ ক্ষেত্রে প্রেস কাউন্সিলকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের মতে, এ ধরনের কার্যকর প্রতিকারব্যবস্থা থাকলে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো।

সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশ কার্যালয়ে ককটেল হামলার ঘটনায়ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।কোনো সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিক যাতে ভয়ভীতি, হামলা কিংবা চাপের মুখে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত না হন,তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

সংগঠনটির দাবি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল স্বাধীন গণমাধ্যম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) বাংলাদেশে মোট ২৮৮টি হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় মোট ৫১৮ জন সাংবাদিক assaulted (আক্রান্ত) বা হয়রানির শিকার হন এবং ২৯৭ জন সাংবাদিক শারীরিক আঘাত বা হামলার শিকার হন।

এছাড়াও আলাদা মাসিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী:

• অক্টোবর মাসে শুধু শারীরিক হামলা ও আঘাতের শিকার হয়েছেন ১৮ জন সাংবাদিক (যাদের মধ্যে একজন প্রাণ হারিয়েছেন)।

• সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী বছরের প্রথম নয় মাস পর্যন্ত মোট ২৯৭ জন সাংবাদিক শারীরিক আঘাতের শিকার হয়েছেন।

গত অক্টোবর মাসে বাংলাদেশে অন্তত ২৮ জন সাংবাদিক বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন হত্যার শিকার হয়েছেন। শারীরিক হামলা ও আঘাতের শিকার হয়েছেন ১৮ জন। এ ছাড়া আইনি হয়রানি ও হুমকির শিকার হয়েছেন ৯ জন।

সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ(জেপিসি)দের অক্টোবর মাসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার সংগঠনটি একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সদ্য বিদায়ী অক্টোবর মাসে দেশের সাংবাদিকদের কর্মপরিবেশ ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ঝুঁকিপূর্ণ। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকেরা শারীরিক হামলা, গ্রেপ্তার, আইনি হয়রানি, হত্যা ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং সংগঠনের নিজস্ব সূত্র থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া গ্রামে একটি চায়ের দোকানে অবস্থানকালে মোটরসাইকেলে আসা দুই অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীর হামলায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নিহত হন। সহকর্মীদের দাবি, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধানী লেখালেখির কারণে তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

১৮ সাংবাদিকের ওপর শারীরিক হামলা

প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবর মাসে রাজনৈতিক নেতা–কর্মী ও সন্ত্রাসীদের হাতে অন্তত ১৮ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হামলায় চার সাংবাদিক আহত হন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে রামদা,চাপাতি, হকিস্টিক ও ব্যাট হাতে মিছিল থেকে আসা নেতা-কর্মীরা অস্ত্রের ভিডিও ধারণ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের মারধর করেন।এতে একজন সাংবাদিকের মাথা ফেটে যায়।এ সময় আহত সাংবাদিকদের উদ্ধারে এগিয়ে আসা অন্য সাংবাদিকদেরও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

এ ছাড়া গাজীপুরের টঙ্গীতে এক সাংবাদিককে অপহরণের অভিযোগ ওঠে। ওই সাংবাদিকের দাবি, মোটরসাইকেলে আসা ৪০ থেকে ৫০ জন ব্যক্তি তাঁর চোখ-মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে যান। পরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। এক নারীর সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে দিয়ে নগ্ন ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মাজার বস্তির মাদকের সংবাদ প্রকাশ করলে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জ্ঞান হারালে তাঁকে ফেলে যাওয়া হয়।

আইনি হয়রানি ও হুমকির শিকার ৯ সাংবাদিক:

প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবর মাসে অন্তত ৯ জন সাংবাদিক আইনি হয়রানি ও হুমকির শিকার হয়েছেন।এর মধ্যে ঝিনাইদহ কলেজের অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হন।সাংবাদিকদের অভিযোগ,কলেজের ইট বিক্রির অনিয়ম আড়াল করতে অধ্যক্ষের মদদে বহিরাগত ব্যক্তিরা তাঁদের রড দিয়ে পেটান।পরে মিথ্যা মামলায় তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।পরিবারের দাবি, ডিবি পুলিশের মাদক-সংশ্লিষ্টতার সংবাদ প্রকাশের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ফাঁসানো হয়েছে।

এ ছাড়া মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক সিলেট সাইবার নিরাপত্তা আদালতে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে মৃত নারীদের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করায় এক সাংবাদিক প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন।ওই সাংবাদিকের করা জিডিতে মর্গের সাবেক এক সহকারীকে হুমকিদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী,তিনি ফোন করে ভয় দেখান এবং ‘কোর্টে দেখে নেওয়ার’ বার্তা পাঠান।

সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও আইনি হয়রানির এসব ঘটনাকে মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করে সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ(জেপিসি)।সংগঠনটির মতে, রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কিংবা পেশিশক্তি ব্যবহার করে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভূইঁয়া অবিলম্বে প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত,দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।গণতান্ত্রিক উত্তরণ সত্ত্বেও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্ম স্থান তৈরি হয়নি এটাই সবচেয়ে হতাশার। তাই সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের যে দাবি দাওয়া বতর্মান সরকারের কাছে পেশ করেছেন তা মেনে নিয়ে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন করা হউক।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়া প্রধান ও চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. শারীরিক আক্রমণ ও সহিংসতা

• ভৌত হামলা: দুর্নীতি, অনিয়ম, পরিবেশদূষণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের সংবাদ প্রকাশ বা সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা নানা স্থানে হামলা ও মারধরের শিকার হচ্ছেন।

• প্রতিবাদস্থলে ঝুঁকি: রাজনৈতিক কর্মসূচি, আন্দোলন বা সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে নিরাপত্তা বাহিনী কিংবা বিক্ষোভকারী উভয় পক্ষ থেকেই অনেক সময় সাংবাদিকরা আক্রান্ত হন।

২. আইনি ও বিচারিক হয়রানি (Lawfare)

• আইনের অপব্যবহার: মানহানি বা সাইবার সুরক্ষা আইনসহ বিভিন্ন নিবর্তনমূলক আইন ব্যবহার করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানি ও গ্রেপতারের প্রবণতা দেখা যায়।

• বিচারহীনতা: অতীতে সাংবাদিকদের ওপর হওয়া বেশিরভাগ হামলার বিচার বা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হচ্ছে।

৩. ডিজিটাল ও অনলাইন ঝুঁকি

• সাইবার আক্রমণ: স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে নজরদারি, হ্যাকিং এবং যোগাযোগ মাধ্যম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

• অনলাইন হেনস্থা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রোলিং, সাইবার বুলিং, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং বিশেষ করে নারী সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও অনলাইন হুমকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

৪. পেশাগত ও আর্থ-সামাজিক অনিশ্চয়তা

• ন্যায়সংগত পরিবেশের অভাব: অনেক সংবাদকর্মী বিশেষ করে মফস্বল বা জেলা-উপজেলায় পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, বিমা ও ন্যায্য কর্মপরিবেশ ছাড়াই কাজ করতে বাধ্য হন।

• আত্মনিয়ন্ত্রণ (Self-censorship): লাগাতার হুমকি, নিরাপত্তা হীনতা ও আইনি চাপের কারণে অনেক সময় সত্য প্রকাশে সাংবাদিকদের মাঝে এক ধরণের আত্মনিয়ন্ত্রণ বা ভয় কাজ করে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করে।

ফটোকার্ড বানান

নিউজটি ফেসবুকে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

[ramadan_somoysuci]

© All rights reserved © 2025 dailybarishalmukhopatro.com