ভুল সবারই হতে পারে, কিন্তু ভুল ধরিয়ে দেওয়ার সাহস থাকে গণমাধ্যমের!
নিজস্ব প্রতিবেদক✍️
প্রকাশিত সময়
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
২৭
বার পড়েছেন
আসাদুজ্জামান মুরাদ ✍️
ডাক্তারের ভুল হতে পারে, সেটা ধরবেন চিকিৎসাবিদ্যার সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ।
ইঞ্জিনিয়ারের ভুল হতে পারে, সেটা ধরবেন অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার।
আইনজীবীর ভুল হতে পারে, সেটা ধরবেন আইনজীবী কিংবা সংশ্লিষ্ট আইনজ্ঞ।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, TC, DC, Hb, AMH, SGPT—এসবের অর্থ বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের জটিল বিষয় একজন ভিন্ন পেশার মানুষ কতটুকু জানবেন? নিশ্চয়ই সবকিছু জানা তার পক্ষে সম্ভব নয়। যেমন একজন চিকিৎসকও হয়তো সাংবাদিকতার নীতিমালা, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কৌশল কিংবা সংবাদ যাচাইয়ের সব প্রক্রিয়া জানবেন না।
তাহলে কি একজন সাংবাদিক ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী কিংবা সরকারি কর্মকর্তার কোনো অনিয়ম বা অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবেন না? অবশ্যই পারবেন।
কারণ সাংবাদিকের কাজ চিকিৎসা দেওয়া নয়, ইঞ্জিনিয়ারিং করা নয় কিংবা আদালতে আইনজীবীর ভূমিকা পালন করা নয়। সাংবাদিকের কাজ হলো, তথ্য খুঁজে বের করা, প্রশ্ন করা, নথি যাচাই করা, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরা।
একজন সাংবাদিক যদি কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পান, তাহলে তার দায়িত্ব হলো সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহ করা, বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া, অভিযুক্ত চিকিৎসকের বক্তব্য নেওয়া এবং যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা। একই নিয়ম ইঞ্জিনিয়ার, প্রশাসন, পুলিশ, ব্যবসায়ী কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আর এখানেই গণমাধ্যমের শক্তি।
গণমাধ্যম কারও প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, গণমাধ্যম হলো সমাজের আয়না। ভালো কাজ হলে সেটিও তুলে ধরবে, আর অনিয়ম হলে প্রশ্নও তুলবে। কারণ ক্ষমতা যার হাতেই থাকুক, জবাবদিহির প্রশ্ন সবার জন্যই প্রযোজ্য।
আপনি কি জানেন? গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের “চতুর্থ স্তম্ভ” বলা হয়। আইনসভা, নির্বাহী ও বিচার বিভাগের পাশাপাশি স্বাধীন গণমাধ্যম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের কাছে ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তাই কোনো পেশার মানুষের ভুল ধরতে সাংবাদিককে সেই পেশার লোক হওয়া জরুরি নয়; তথ্য যাচাই করে সত্যকে সামনে আনার দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে একটি কথা মনে রাখা জরুরি, গণমাধ্যমের ক্ষমতা যেমন অনেক, দায়িত্বও তেমন বড়।
প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা সাংবাদিকতা নয়; একপেশে বক্তব্য প্রচার করা সাংবাদিকতা নয়; ব্যক্তিগত আক্রোশকে সংবাদে পরিণত করাও সাংবাদিকতা নয়।
সাংবাদিকতা হলো প্রশ্ন করার সাহস, সত্য যাচাইয়ের ধৈর্য এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে দাঁড়ানোর দায়িত্ব।
ডাক্তার ভুল করলে চিকিৎসাবিদ্যার মানুষ ধরবেন,
ইঞ্জিনিয়ার ভুল করলে প্রকৌশলীরা ধরবেন,
আর রাষ্ট্র বা সমাজের কোনো স্তরে অনিয়ম হলে,
সেই অনিয়মের প্রশ্নটি জনগণের সামনে তুলে ধরার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব গণমাধ্যমের।
কারণ, গণমাধ্যম কারও ভুল করার লাইসেন্স বাতিল করে না; কিন্তু ভুলকে আড়াল করে রাখার সুযোগও দেয় না।