বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোতে “চোঙ্গি” নামে চলছে নিয়মিত চাঁদাবাজি। অসহায় কন্ডাক্টর ও চালকরা প্রতিদিন জুলুমের শিকার হলেও মুখ খুলতে পারছেন না। মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজির এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডিপোর ম্যানেজার (অপারেশন) মো. জুলফিকার আলী।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি চট্টগ্রাম ডিপো থেকে বদলি হয়ে আসা এই জুলফিকার আগে বরিশাল বিআরটিসিতেই এটিও পদে কর্মরত ছিলেন। সে সময়ও চাঁদাবাজির অভিযোগে হেড অফিস তাকে শাস্তিমূলকভাবে বদলি করেছিল। কিন্তু এবার ফিরে এসে তিনি আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে বরিশাল থেকে ঢাকা, কুয়াকাটা, ভোলা, পটুয়াখালীসহ ৩৭টি রুটে ৫১টি বিআরটিসি বাস চলাচল করছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি বাসের কন্ডাক্টর ও চালক সরকারি সেলের মাধ্যমে নিজ নামে ট্রিপ পরিচালনা করেন। কিন্তু এখন সেই নিয়ম কার্যত অকার্যকর।
ডিপোর ইউনিট ইনচার্জ, টিআই, ফোরম্যান ও হিসাব বিভাগ মিলে প্রতি ট্রিপে ১,০০০ থেকে ২,০০০ টাকা “চোঙ্গি” (চাঁদা) আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চোঙ্গি না দিলে চালক-কন্ডাক্টরদের বদলির হুমকি দেওয়া হয়।
একাধিক কন্ডাক্টর ও চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান —জুলফিকার যোগদানের পরদিনই নির্দেশ দিয়েছে — প্রতি ট্রিপে চোঙ্গি দিতে হবে। না দিলে ট্রিপ বন্ধ, এমনকি বদলির ব্যবস্থা হবে। আমাদের একপ্রকার জিম্মি করে রেখেছে।”
শুধু তাই নয়, সেল জমার সময় হিসাব বিভাগ অফিস খরচের নামে জোরপূর্বক ১০০ টাকা কেটে নেয়। এটিও ফোরম্যান আলাদাভাবে ১০০ টাকা করে আদায় করেন প্রতিটি ট্রিপ থেকে। ফলে ছোট একটি ডিপো থেকেই মাস শেষে প্রায় ১৫ লাখ টাকা চোঙ্গির নামে হাতবদল হয় বলে সূত্রের দাবি।
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চাকরি পাওয়া এই জুলফিকার ২০১১ সালে এটিও পদে যোগদান করেন। এরপর থেকেই তিনি প্রভাবশালী মহলের ‘চিরকুটে’ ভর করে একের পর এক অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন।
অসহায় কন্ডাক্টর ও চালকরা অভিযোগ করেন —“আওয়ামী সরকারের সময় আমরা জুলুমের শিকার ছিলাম। এখনো সেই অবস্থা চলছে। ৫ আগস্টের পর কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল, কিন্তু জুলফিকার আসার পর আবার পুরনো ভয় ফিরে এসেছে।”
বিষয়টি জানতে বরিশাল বিআরটিসির দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার মো. জুলফিকার আলীকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“চোঙ্গি বা চাঁদা নেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। এসব গুজব।”
অন্যদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব আবদুল লতিফ মোল্লা বলেন,
“যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে, তাহলে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বরিশাল বিআরটিসিতে “চোঙ্গি” নামে নতুন করে চালু হওয়া চাঁদাবাজি এখন খোলামেলা গোপন সত্য। সরকার নির্ধারিত নিয়ম উপেক্ষা করে ম্যানেজার থেকে হিসাব বিভাগ পর্যন্ত এক সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। আর অসহায় চালক-কন্ডাক্টররা প্রতিদিন তাদের ঘাম-ঝরানো আয়ের বড় অংশ হারাচ্ছেন এই চোঙ্গির খপ্পরে।