বছরের প্রথম দিনেই বরিশাল জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে সারাদেশে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা থাকায় এবার কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক বই উৎসব ছাড়াই এই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল থেকে বরিশালের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন। বই হাতে পেয়ে খুশিতে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল জেলায় প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের ১ হাজার ৫৮৮টি বিদ্যালয়ের জন্য এ বছর মোট বইয়ের চাহিদা ছিল ১১ লাখ ৬৭ হাজার ২০৮টি। এরমধ্যে ইতোমধ্যে ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৬০০টি নতুন বই বিদ্যালয়গুলোতে পৌঁছে গেছে। বাকি ২ হাজার ৬০৮টি বই খুব শিগগিরই সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রায় সব বই পৌঁছে দেওয়ায় শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারবে।
বরিশাল বিভাগে মাধ্যমিক স্তরের মোট বইয়ের চাহিদা রয়েছে ৬৯ লাখ ৬১ হাজার ৯৩০টি। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা ৪৭ লাখ ১০ হাজার ৫০৩টি বই বুঝে পেয়েছেন।
অন্যদিকে কারিগরি ট্রেড, দাখিল, ভোকেশনালসহ অন্যান্য স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট বইয়ের চাহিদা নির্ধারিত হয়েছে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার ৬৪৬টি। এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত সরবরাহ করা হয়েছে ১ কোটি ১৮ হাজার ৪৭৭টি বই।
শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাকি বইগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে যাবে।
নতুন বই হাতে পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে অনেক শিক্ষার্থী জানায়, বছরের শুরুতেই নতুন বই পেয়ে তারা খুব খুশি। বইয়ের নতুন গন্ধ আর ঝকঝকে পাতায় নতুন বছরের পড়াশোনা শুরু করতে পেরে তাদের মধ্যে আলাদা এক উদ্দীপনা কাজ করছে।
যদিও রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে আনুষ্ঠানিক বই উৎসব হয়নি, তবে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই পাওয়ার আনন্দ কোনো অংশেই কমেনি।