ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার ১০ বছর পর বরিশাল নগরীর ৩৫টি ভবন ভাঙার কার্যক্রম শুরু করেছে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) নগরীর সদর রোডের ঝুঁকিপূর্ণ তিন তলা ভবন সাকুর ম্যানশন ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করা হয়েছে।
প্রভাবশালীদের দখলে থাকা এই ভবনটিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ আইনী লড়াই শেষে এই অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভবনটি পুরোপুরি অপসারণ করতে এক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছে বিসিসি’র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। নগরবাসীর নিরাপত্তায় পর্যায়ক্রমে বাকি ভবনগুলো ভাঙা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহখানেক আগে বটতলা এলাকার পরিসংখ্যান অফিস সংলগ্ন এক প্রভাবশালীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙা হয়েছে। প্রভাবশালীদের বাঁধার পাশাপাশি আইনী জটিলতার কারণে এতোদিন এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন নগরভবনের কর্মকর্তারা।
বিসিসির প্রশাসনিক বিভাগের তথ্যানুযায়ী, নগরীর বটতলা, সদর রোডসহ ৫৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ৩৫টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ২০১৩ সালের জরিপে এই ভবনগুলোর বেহাল অবস্থা দেখতে পেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় পুরানোসহ নতুন কয়েক তলা বিশিষ্ট ভবনও রয়েছে। সদর রোডের যে ভবনটি ভাঙা হচ্ছে সেটি ফাটল ধরে পাশের ভবনে হেলে পড়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ শাকুর ম্যানশনের মালিক নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ত্রিশ বছর আগে নির্মাণ করা এই ভবনটি ২০১৩ সালে ফাটল দেখা দেয়। এরপর ভবনটি পাশের ভবনে হেলে পরে। এরপর বিসিসি ২০১৩ সালে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে তিন ভাড়াটিয়া প্রভাবশালী কাজী মফিজুল ইসলাম, শাহিনুর রহমান ও রুবেল ইসলাম ভবনটি দখল করে রেখেছিলেন। ভাড়াটিয়ারা জোর করে দখলে থাকায় তা ভাঙা সম্ভব হয়নি। পরে সম্প্রতি বিসিসিতে ৯০ হাজার টাকা জমা দেওয়ার পর ভবন ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে।
বিসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস জানান, শাকুর ম্যানশনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে আমরা আগেই নোটিশ করেছি। কিন্তু ভাড়াটিয়ারা আদালতের শরণাপন্ন হলে তা ভাঙাতে নিষেধাজ্ঞা দেন বিচারক। সেই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বিসিসি রায় পাওয়ার পর ভাঙা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
স্বপন কুমার দাস আরও বলেন, আমরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে এখানে নোটিশ দিয়েছিলাম। তারপরেও ভাড়াটিয়ারা দখল ছাড়েননি। শুক্রবার সকালে ভাড়াটিয়াদের চূড়ান্তভাবে চলে যাওয়ার নোটিশ দিয়ে ভবন ভাঙা শুরু করা হয়।