বরিশালে পরিত্যক্ত সাবমেরিন ক্যাবল উত্তোলন ও চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রকাশিত একটি সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবেশবিষয়ক সংগঠন ‘প্রতিরোধ আন্দোলন’। সংগঠনটির দাবি, প্রকাশিত সংবাদে তাদের সদস্যদের জড়িয়ে তথ্যবিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে পরিত্যক্ত ক্যাবল উত্তোলন, অনুসন্ধান এবং পরবর্তীতে ক্যাবল কাটার ঘটনা সম্পর্কে তাদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘প্রতিরোধ আন্দোলন’-এর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে সামাজিক মূল্যবোধ সৃষ্টি, মাদকবিরোধী প্রচারণা, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বর্জ্য অপসারণ ও ড্রেন নির্মাণসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন।
সংগঠনটির দাবি, বরিশালের রূপাতলী গ্যাসটারবাইনের সংলগ্ন একটি এলাকার পাশ দিয়ে নদীর তলদেশে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ওই লাইনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিনেও পরিত্যক্ত ক্যাবল উত্তোলনে কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ক্যাবল চুরির বিষয়টি তাদের নজরে আসে।
এ বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রথম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জিএম মো. আবুল বাশারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ওই স্থানে তাদের কোনো লাইন থাকার তথ্য জানা নেই বলে জানান। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংগঠনটি জানতে পারে, লাইনটি অনেক আগেই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এরপর সংগঠনের প্রতিনিধিরা বরিশাল রূপাতলী অফিসে গিয়ে জিএমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পরিত্যক্ত ক্যাবল উত্তোলনের অনুরোধ করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে ক্যাবল উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গত ২৯ আগস্ট সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা ট্রলার নিয়ে নদীতে ক্যাবল অনুসন্ধান করেন। এ সময় ‘প্রতিরোধ আন্দোলন’-এর প্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। লাঞ্চ বিরতির পর বিকেল পর্যন্ত অনুসন্ধান কার্যক্রম চলে।
তবে সংগঠনটির লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, পরদিন ৩০ আগস্ট রাত আনুমানিক ২টার দিকে স্থানীয় মাছ ধরার নৌকার মাঝিরা নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় ক্যাবল কাটার ঘটনা দেখতে পান। পরে তাদের মাধ্যমে বিষয়টি সংগঠনের সদস্যদের কাছে পৌঁছায়। ঘটনাটি জানার পর সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি অবহিত করা হয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
এদিকে পরবর্তীতে প্রকাশিত একটি সংবাদে সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে তথ্যবিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ‘প্রতিরোধ আন্দোলন’। এতে সংগঠন ও এর সদস্যদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা মো. সরোয়ার, ব্যবসায়ী মো. আনোয়ারসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়েও আপত্তি জানানো হয়।
‘প্রতিরোধ আন্দোলন’-এর পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে ঘটনাটির প্রকৃত তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংবাদ প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে প্রকাশিত সংবাদে যেসব তথ্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেগুলোও যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।
তবে পরিত্যক্ত সাবমেরিন ক্যাবল কাটার ঘটনায় কারা জড়িত এবং ক্যাবলটির প্রকৃত মালিকানা ও বর্তমান অবস্থান কী—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।