এম এ সবুর : রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি এলাকার এক সাধারণ গৃহবধু ফারিয়া আক্তার ইলা। কয়েক বছর আগেও যার পরিচয় ছিলো শুধুই সংসার সামলানো নারী হিসেবে। তবে নিজের ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম আর সাহসকে পুঁজি করে এখন তিনি সফল নারী উদ্যোক্তা। তার বাবার বাড়িতে বসে মাত্র একটি গরু দিয়ে শুরু করা তার খামারে বর্তমানে রয়েছে ৬৪টি গরু।
একসময় যাকে নিয়ে সমালোচনা হতো, আজ সেই ইলাই রাজাপুরের অনেক নারীর অনুপ্রেরণ। তার সফলতার গল্প যেন জানিয়ে দেয় স্বপ্ন আর পরিশ্রম থাকলে অসম্ভবও সম্ভব।
২০২৩ সালে ছোট পরিসরে গরু পালন শুরু করেন ইলা। শুরুতে অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। বরং একজন নারী হয়ে খামার পরিচালনা করায় নানা কটুক্তি ও সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছেতাকে। কিন্তু থেমে যাননি তিনি। ধীরে ধীরে নিজের স্বপ্নকে বড় করতে শুরু করেন।
পরবর্তীতে পরিবারের সহযোগীতা, বিশেষ করে ব্রুনাই প্রবাসী স্বামী মো. সুমন খানের সার্বিক অনুপ্রেরণায় গড়ে তোলেন “ফাহিয়ান এাগ্রো ফার্ম”। বর্তমানে তার খামারে ফাইটার, শাহিওয়াল ও ওয়েস্টর্ন ফ্রিজিয়ানসহ বিভিন্ন জাতের ৬৪টি গরু রয়েছে।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে খামারে চলছে ব্যস্ততা। দেশীয় পদ্বতিতে খড়, ঘাস ও দানাদার খাবার খাইয়ে গরুগুলো মোটাতাজা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩০টি গরু বিক্রি করেছেন বলে জানান ইলা। এবার কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে খামার থেকে প্রায় এক কোটি টাকার গরু বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন তারা।
শুধু গরুর খামারেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি। পাশাপাশি ছাগল পালন, কবুতর পালন ও মাছ চাষও করছেন। তার এই উদ্যোগে এখন কর্মসংস্থান হয়েছে এলাকার কয়েকটি পরিবারের।
খামারে কাজ করা শ্রমিকরা জানান, এখানে গরুগুলোকে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে লালন-পালন করা হয়। খামারে কাজ করে তারা নিয়মিত আয় করে পরিবারের মুখে দু-বেলা দু’মুঠো খাবারের ব্যবস্থাসহ সকল চাহিদা পুরন করতে পারছেন।
ফাহিয়ান এগ্রো ফার্ম এর পরিচালক ফারিয়া আক্তার ইলা বলেন, “শুরুতে অনেক মানুষ আমাকে নিরুৎসাহিত করেছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস হারাইনি। আমার স্বপ্ন ছিল বড় একটি খামার গড়ে তোলা। এক সময় সমালোচনা করা মানুষ গুলো এখন আমার কাজের প্রশংসা করে, এটা অনেক ভালো লাগে।” সামনে আরও বড় পরিসরে খামার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও নিতি জানান।
রাজাপুর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, “ফারিয়া আক্তার ইলা একজন পরিশ্রমী নারী উদ্যোক্তা। দেশীয় পদ্বতিতে গরু লালন-পালন করে তিনি সফল হয়েছেন। তাকে দেখে অনেক নারী এই কাজে উদ্যোগী হচ্ছেন। প্রাণীসম্পদ বিভাগ থেকে তাকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগীতা দেওয়া হচ্ছে।”