বরিশালে দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় থাকা হানিট্র্যাপ চক্রের মূল গডফাদার হিসেবে পরিচিত অনলাইন পোর্টালের অপ-সাংবাদিক রিপন রানা ও জিয়াউল আহসান শাহিন ওরফে মোহাম্মদ হোসেন ওরফে ‘ঝাড়ুদার শাহীন’ আত্মগোপনে চলে গেছেন। নগরীর ভাটিখানা এলাকার সাম্প্রতিক হানিট্র্যাপ চক্রের ঘটনায় নাম প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তারা বরিশাল ছাড়া হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, এ দুইজন দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় অর্ধশতাধিক হানিট্র্যাপের ফাঁদ পেতে সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিলেন। অনলাইন পোর্টালের কর্মী বেলালের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবং সর্বশেষ ভাটিখানায় একটি হানিট্র্যাপ চক্র ধরা পড়ার পরই তাদের বিরুদ্ধে জনমনে ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে।
হানিট্র্যাপ চক্রের এক নারী সদস্য আটক হওয়ার পর পরই রিপন রানা ও ঝাড়ুদার শাহীন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই দুজনকে আটক করলে বেরিয়ে আসবে আরও বহু গোপন তথ্য, যা চক্রটির পুরো নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের পরিচয় উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নগরীর সচেতন মহল, ব্যবসায়ী সমাজ, সুশীল নাগরিক ও গণমান্য ব্যক্তিরা বলেছেন, এই দুজনই হানিট্র্যাপ নেটওয়ার্কের হোতা। তাদের গ্রেফতার করা গেলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। রাজধানী থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত কারা তাদের সঙ্গে যুক্ত-সব তথ্যই সামনে আসবে।”
এদিকে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, হানিট্র্যাপের শিকার হয়ে বহু মানুষ চরম মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন, কিন্তু চক্রটির ভয় ও প্রভাবের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পাননি।
সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত রিপন রানা ও জিয়াউল আহসান শাহীনকে গ্রেফতারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, এ দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসবে এবং পুরো চক্রটি ধ্বংস করা সম্ভব হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে নগরবাসীর প্রত্যাশা-হানিট্র্যাপ চক্রের আতঙ্ক থেকে মুক্তি পেতে দ্রুতই মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা হবে।