দীর্ঘ ২৩ বছর পর দেশে ফিরছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও নব্বই দশকের আলোচিত ছাত্রনেতা গোলাম ফারুক অভি। ২০০২ সাল থেকে কানাডায় অবস্থানরত এই সাবেক এমপি নভেম্বর মাসেই দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। তার ফেরা ঘিরে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) নির্বাচনি এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা।
১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উজিরপুর-বাবুগঞ্জ আসন থেকে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে দেশের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য হয়েছিলেন গোলাম ফারুক অভি। সে সময় তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে পরাজিত করে আলোচনায় আসেন। এমপি থাকাকালীন সময়ে উজিরপুরের বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোকে সেতু, কালভার্ট ও সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনেন তিনি।
২০০১ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও একাধিক মামলার কারণে ২০০২ সালে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন অভি। তারপর থেকে তিনি আর দেশে ফেরেননি। অবশেষে ‘জুলাই বিপ্লব’ পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশে ফেরার ঘোষণা দেন এই সাবেক সংসদ সদস্য।
কানাডা থেকে টেলিফোনে অভি বলেন, “দেশে ফিরব, এটাই আমার কাছে প্রায়োরিটি। নির্বাচনে অংশ নেওয়া সেকেন্ডারি।” বিএনপি থেকে মনোনয়ন কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন কিনা—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখনো কারও সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। ইসলামপন্থি কোনো জোটে যাওয়ার সম্ভাবনাও নেই। আমি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে বিশ্বাসী।”
অভির ফেরা ঘিরে উজিরপুর-বানারীপাড়ায় নির্বাচনি মাঠে নতুন উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভি ভোটে অংশ নিলে বরিশাল-২ আসনে যে কোনো প্রার্থীর জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে।
এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন চাইছেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সরফুদ্দিন সান্টু ও কাজী দুলাল হোসেন, কেন্দ্রীয় সহ-পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন আকতার হোসেন এবং ছাত্রদলের সাবেক নেতা সাইফ মাহমুদ জুয়েল।
বিএনপি মনোনয়নপ্রত্যাশী কাজী দুলাল হোসেন বলেন, “২৩ বছর আগে আর বর্তমানের বাংলাদেশ এক নয়। এ সময়ের মধ্যে ভোটের ধারা ও ভোটারদের পছন্দ অনেক বদলেছে। তবে আমরা জনগণের রায়ে বিশ্বাসী। জনগণ এখনো ধানের শীষকে ভালোবাসে, সেই ভালোবাসাই আমাদের জয়ের মুখ দেখাবে ইনশাআল্লাহ।”
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, গোলাম ফারুক অভির প্রত্যাবর্তন শুধু উজিরপুর-বানারীপাড়ায় নয়, পুরো বরিশাল বিভাগের রাজনীতিতেই নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।
উজিরপুর উপজেলার মানুষ এখনো স্বরন করে গোলাম ফারুক অভি কে।