1. admin@dailybarishalmukhopatro.com : admin-barishal :
  2. adminaminalamin@gmail.com : দৈনিক বরিশাল মুখপত্র : দৈনিক বরিশাল মুখপত্র
শিরোনামঃ
বরিশালে পত্রিকার আদলে ভুয়া পেজের ছড়াছড়ি, বিবেকের কাঠগড়ায় প্রকৃত সাংবাদিকরা : হয়রানির শিকার পুলিশ প্রশাসন-রাজনৈতিক ব্যক্তিরা কবে বন্ধ হবে প্রতিহিংসার রাজনীতি? চরামদ্দিতে বিধবার দুটি কাঁঠালগাছ কাটার অভিযোগ বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে ১৪তম গ্রেডের কর্মচারী সাইফুল সার্ভেয়ারের জমি ও ভবনে সাড়ে ৪ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ, অর্থের উৎস কী! ইজিবাইক চালক নাজমুল হত্যার বিচার দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল বরিশালে ইয়াবার ‘ওপেন সিক্রেট’ বাণিজ্য! বরিশাল নগরীর ইসলামপাড়া মুহুরী পরিবারের বিরুদ্ধে গডফাদার-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ, অস্ত্রের ভয়ে নীরব এলাকাবাসী? ইলিশ রক্ষায় বরিশাল মৎস্য বিভাগের নজরদারি কোথায়? রাতের আঁধারে পার হচ্ছে ইলিশের চালান! এক যুগের ময়লা-আবর্জনা সরাতে উদ্যোগ, পরিচ্ছন্ন হচ্ছে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের পুকুর বরিশাল নগরীর বগুড়া রোডে ২৩৫ পিস ইয়াবাসহ সাবেক সেনাসদস্য ও স্ত্রী গ্রেপ্তার কালকিনিতে ভাড়ায় মারামারি করতে এসে হত্যা মামলার আসামি নিহত, আহত ৫

এক কনস্টেবলে অতিষ্ঠ শেবাচিম হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক✍️
  • প্রকাশিত সময় বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৬০৪ বার পড়েছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে দায়িত্ব পালনরত বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কনস্টেবল বশির আহমেদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অনৈতিক সুবিধা নেওয়া ও হাসপাতালের স্টাফকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের সুযোগে তিনি প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভদের কাছ থেকে মাসিক ভিত্তিতে এবং হাসপাতালের অভ্যন্তর ও আশপাশের বিভিন্ন দোকান থেকে দৈনিক ভিত্তিতে ‘মাশোয়ারা’ নেন বশির। এছাড়া হাসপাতালের সামনের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক ল্যাবের মার্কেটিং কর্মচারীদের কাছ থেকেও নিয়মিত অর্থ নিয়ে থাকেন।

প্রায় দুই বছর ধরে শেবাচিম হাসপাতালে পুলিশি দায়িত্বে থাকা বশিরকে হাতে ওয়াকিটকি নিয়ে অনেকটা এসআইয়ের মতো দাপট দেখিয়ে চলাফেরা করতে দেখা যায়। অভিযোগকারীদের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবায় বিভিন্ন সহযোগিতা দেওয়ার মাধ্যমে সন্তুষ্ট রেখে তিনি হাসপাতালে নিজের প্রভাববলয় তৈরি করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) শেবাচিম হাসপাতালের এক স্টাফকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কনস্টেবল বশিরের বিরুদ্ধে। হাসপাতালের ভেতরে এক চোরকে হাতেনাতে আটক করার পর ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় স্টাফকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী স্টাফের অভিযোগ, হাসপাতালে চোরদের কাছ থেকেও নিয়মিত অর্থ নেওয়া হয়। এ কারণে চোরের ভিডিও ধারণ করায় বশির ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন। সম্প্রতি এক ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির প্রতিনিধির কাছ থেকেও মোবাইল ফোন আটক করে ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভ অভিযোগ করেন, ছবি তোলার অভিযোগ তুলে কনস্টেবল বশির তার মোবাইল ফোন নিয়ে যান। পরে তাকে গালিগালাজ করে ২ হাজার টাকা দাবি করা হয়।

ওই রিপ্রেজেন্টেটিভ বলেন, “আমি কোনো ছবি তুলিনি। নিরুপায় হয়ে তাকে ২ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। অথচ আমার সামনেই কয়েকজন প্রকাশ্যে ছবি তুলছিলেন। তাদের কাউকে কিছু বলা হয়নি। যারা নিয়মিত অর্থ দেন, তাদের ক্ষেত্রে বশির ভিন্ন আচরণ করেন।

আরেক ওষুধ সেলসম্যান অভিযোগ করেন, তার ওষুধের স্যাম্পল আটকে রেখে কনস্টেবল বশির তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা আদায় করেছেন। প্রথমে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার মোবাইল ফোন আছড়ে ভেঙে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই সেলসম্যান বলেন, এই ওষুধে আমার কতটুকু ব্যবসা হবে? অথচ আমার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া লাবু নামের আরেক ওষুধ সেলসম্যানের কাছ থেকেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কনস্টেবল বশির ওয়াকিটকি হাতে নিয়ে পুলিশের উপপরিদর্শকের মতো প্রভাব বিস্তার করেন। তার সঙ্গে নিয়মিত লেনদেন থাকা ব্যক্তিরা হাসপাতালে নানা ধরনের সুবিধা পান বলেও অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালে প্রতিদিন আসা ভ্রাম্যমাণ হকারদের কাছ থেকেও ২০০ থেকে ৩০০ টাকা নিয়ে হাসপাতালের অভ্যন্তরে বেচাকেনার সুযোগ করে দেওয়া হয়। হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, দালাল ও চোরচক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধেও তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএমপির (আরআই) ও সংশ্লিষ্টদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে শেবাচিম হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন বশির—এমন অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি তাকে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানায় বদলির আদেশ দেওয়া হলেও বিশেষ তদবিরের মাধ্যমে সেই বদলি ঠেকিয়ে তিনি শেবাচিমেই বহাল রয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কনস্টেবল বশির আহমেদ এসব অভিযোগ একেবারে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমি কারও কাছ থেকে টাকা নিই না। এসব অভিযোগ সবই মিথ্যা। একজন স্টাফের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়েছে, তবে তাকে মারধর করিনি।”

এদিকে এসব অপকর্মের সহযোগী হিসেবে কর্মরত আনসার সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ সদস্য ও আনসার সদস্যরা মিলেই মাসিক মাশোয়ারা বন্টন করে থাকেন বলে অভিযোগ। তবে আনসারদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে আনসার কমান্ডার (পিসি) নাগর বলেন, এসব অপকর্মের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। তবে অপকর্ম করতে যাদেরকে বাঁধা দেই তারা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযোগ করতে পারে।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. মাহমুদ হাসান বলেন, অভিযোগগুলো আমি শুনেছি। তবে সে যেহেতু পুলিশ কমিশনারের স্টাফ। তিনি তদন্ত স্বাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) এর কমিশনার আবু রায়হান সালেহ বলেন, বিষয়গুলো খুবই সেন্সেটিভ। তবে শেবাচিম কর্তপক্ষ তার ব্যাপারে কখনো কোন অভিযোগের বিষয়ে আমাদেরকে জানায়নি। তথাপিও বিষয়গুলো আমরা তদন্ত করে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নিব।

ফটোকার্ড বানান

নিউজটি ফেসবুকে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

[ramadan_somoysuci]

© All rights reserved © 2025 dailybarishalmukhopatro.com