পটুয়াখালীর সন্তান রফিকুল ইসলাম তার দীর্ঘ পুলিশি জীবনের সততা, সাহস ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে সহকারী পুলিশ কমিশনার পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৩০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখের এক প্রজ্ঞাপনে এই পদোন্নতির আদেশ জারি করা হয়।
রফিকুল ইসলামের জন্ম পটুয়াখালী জেলার দুমকি থানার আংগারিয়া গ্রামের এক সম্মানিত পরিবারে। তিনি প্রয়াত জি. এ. রশিদের পুত্র। ছোটবেলা থেকেই বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল—ছেলেকে একজন সৎ ও দেশপ্রেমিক পুলিশ অফিসার হিসেবে গড়ে তোলা। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে।
শিক্ষাজীবনে নিয়মিত সাফল্যের ধারায় থাকা রফিকুল ইসলাম মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা (Human Resource Management) বিষয়ে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ১৯৯২ সালে ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে পুলিশের চাকরিতে যোগ দেন এবং রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে মৌলিক প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রশিক্ষণ শেষে ২৮৭ জনের মধ্যে মেধা তালিকায় ৪র্থ স্থান অধিকার করে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেন।
চাকরির শুরু ভোলা জেলা থেকে। পরবর্তীতে পিরোজপুর, বরগুনা ও বরিশাল জেলার বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০৭ সালে উপ-পরিদর্শক (এসআই) থেকে পুলিশ পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পান এবং বরিশাল কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পেশাগত জীবনে অসাধারণ পারফরমেন্সের স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে (UN Peacekeeping Mission) সুদানে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান রফিকুল ইসলাম। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। তার মধ্যে সুইডেন ও ভারতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ইন্সপেক্টর থেকে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে পদোন্নতি পান এবং ৩০ অক্টোবর বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা, পেশাদারিত্ব ও ন্যায়পরায়ণতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার অর্জন করেছেন, যার মধ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী পদক অন্যতম।
রফিকুল ইসলামের মতে,
> “দেশ ও জনগণের নিরাপত্তাই পুলিশের আসল দায়িত্ব। আমি সেই দায়িত্বকে সম্মান করি, কারণ এটাই আমার গর্ব।”