1. admin@dailybarishalmukhopatro.com : admin-barishal :
  2. adminaminalamin@gmail.com : দৈনিক বরিশাল মুখপত্র : দৈনিক বরিশাল মুখপত্র
শিরোনামঃ
কীর্তনখোলায় ইউএনও ফরিদা সুলতানার মধ্যরাতের অভিযান পবিপ্রবি ও বিআরটিসির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত, পহেলা নভেম্বর থেকে চালু হচ্ছে দুটি অত্যাধুনিক দ্বিতল বাস পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার কৌশল? বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের দরপত্রে ‘নিজস্ব শর্ত’ আরোপের অভিযোগ চরকাউয়ায় সুদ ও তাবিজ বিতর্কে মসজিদের ইমাম: পরিবর্তনের দাবি বরিশালের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকের বিস্তারের অভিযোগ, আলোচনায় ‘বি-মুহুরী’ পরিবার! করে দেখিয়ে দিলাম, নাকি সত্যিই কিছু করলাম—এমন আয়োজনের তাৎপর্য কী? প্রসঙ্গ: বিচ কার্নিভাল ২০২৬, কুয়াকাটা বরিশালের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে ‘১০০ টাকার মুহুরী’ পরিবারকে ঘিরে মাদক কারবারের অভিযোগ, আতঙ্কে স্থানীয়রা! বরিশালে পত্রিকার আদলে ভুয়া পেজের ছড়াছড়ি, বিবেকের কাঠগড়ায় প্রকৃত সাংবাদিকরা : হয়রানির শিকার পুলিশ প্রশাসন-রাজনৈতিক ব্যক্তিরা কবে বন্ধ হবে প্রতিহিংসার রাজনীতি? চরামদ্দিতে বিধবার দুটি কাঁঠালগাছ কাটার অভিযোগ বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে

পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার কৌশল? বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের দরপত্রে ‘নিজস্ব শর্ত’ আরোপের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক✍️
  • প্রকাশিত সময় সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৯ বার পড়েছেন

পিপিআরের বাইরে তিন শর্ত নিয়ে বিতর্ক, নতুন উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে বাধার অভিযোগ; লিখিত আবেদন, বিধিমালার সমর্থন দেখাতে পারেননি সিভিল সার্জন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় সমান সুযোগ ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি কেনার দরপত্রে নীতিমালার বাইরে শর্ত আরোপের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. মো. সাইয়েদুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রে এমন কিছু শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, যা পূরণ করা নতুন উদ্যোক্তা ও সাধারণ ঠিকাদারদের জন্য কঠিন। এতে সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় সবার অংশগ্রহণের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগকারী ঠিকাদারদের দাবি, নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এসব শর্ত আরোপ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে সিভিল সার্জন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, দরপত্রে আরোপিত সব শর্তই পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালার (পিপিআর) আওতাভুক্ত। যদিও অভিযোগকারীদের সামনে গেজেটের কপি তুলে ধরার পরও সংশ্লিষ্ট শর্তগুলোর বিধিগত ভিত্তি তিনি দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি কেনার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ই-টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও জেলার সিভিল সার্জনের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের আহ্বান করা এ দরপত্রে আগামী ২৯ অক্টোবর জমা দেওয়ার শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

দরপত্রের শর্তাবলিতে তিনটি বিষয় নিয়ে আপত্তি তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা।

প্রথমত, দরপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ইমেইলে কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়’। দ্বিতীয়ত, দরদাতাকে আগে পণ্য আমদানি করেছেন, এমন প্রমাণ হিসেবে তিনটি বিল জমা দিতে হবে। তৃতীয়ত, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কর্তৃপক্ষের পাসবই জমা দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদাররা।

তাঁদের দাবি, এসব শর্তের কারণে অনেক নতুন উদ্যোক্তা ও সাধারণ সরবরাহকারী দরপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। বিশেষ করে, যেসব প্রতিষ্ঠান চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের সক্ষমতা রাখে, কিন্তু সরাসরি পণ্য আমদানির পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই, তারা দরপত্রে অংশ নিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন।

ঠিকাদারদের প্রশ্ন, সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় পণ্যের মান, সরবরাহ সক্ষমতা, আর্থিক সামর্থ্য ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি এমন শর্ত আরোপের যৌক্তিকতা কী? সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় এসব শর্তের স্পষ্ট ভিত্তি না থাকলে তা দরপত্রের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা। যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এমন শর্ত আরোপ করা হলে, যা অপ্রয়োজনীয়ভাবে সম্ভাব্য দরদাতাদের অংশগ্রহণ সীমিত করে, তাহলে প্রকৃত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

অভিযোগকারী ঠিকাদারদের বক্তব্য, সরাসরি পণ্য আমদানির অভিজ্ঞতা না থাকলেও কোনো প্রতিষ্ঠান বৈধ আমদানিকারক বা অনুমোদিত সরবরাহকারীর মাধ্যমে মানসম্মত চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করতে সক্ষম হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তিনটি আমদানি বিল বাধ্যতামূলক করার যৌক্তিকতা এবং শর্তটির সঙ্গে ক্রয়যোগ্য পণ্যের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা জরুরি।

একইভাবে, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পাসবই বাধ্যতামূলক করার শর্তটি কোন বিধি, দরপত্রের কোন প্রয়োজনীয়তা কিংবা কোন বৈধ যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগকারীরা সরকারি ক্রয়বিধিমালার কথা উল্লেখ করে দাবি করেছেন, যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এমন শর্ত আরোপ করা উচিত নয়, যা অযৌক্তিকভাবে নতুন নিবন্ধিত ব্যক্তি বা উদ্যোক্তাদের দরপত্রে অংশগ্রহণ সীমিত করে। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতা, উচ্চ বার্ষিক টার্নওভার, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা কিংবা একক বৃহৎ চুক্তি সম্পাদনের অভিজ্ঞতাকে অযৌক্তিকভাবে বাধ্যতামূলক করা হলে প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এদিকে, অভিযোগকারীদের উত্থাপিত পিপিআরের বিধান ও দরপত্রে আরোপিত শর্তগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দরপত্রের শর্তাবলি, সংশ্লিষ্ট গেজেট এবং প্রযোজ্য বিধিমালার সুনির্দিষ্ট ধারা পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, বিধিমালার বাইরে কোনো শর্ত আরোপ করা হয়ে থাকলে তা পুনর্বিবেচনা করে সব যোগ্য দরদাতার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত।

দরপত্রে আরোপিত শর্তগুলো পুনর্বিবেচনা এবং সরকারি গেজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্রয়প্রক্রিয়া পরিচালনার দাবি জানিয়ে সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেছে মেসার্স মর্ডান স্কয়ার নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সাব্বির হোসেন বলেন, “সরকারি গেজেটে নতুন প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ থাকার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের দরপত্রে এমন কঠিন কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ ঠিকাদারদের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করছে। আমরা মনে করছি, পছন্দের ব্যক্তিকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এসব শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় যোগ্যতা ও সক্ষমতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতার সুযোগ থাকা উচিত। কোনো শর্তের কারণে যদি এক শ্রেণির প্রতিষ্ঠান অযৌক্তিকভাবে বাদ পড়ে, তাহলে দরপত্রের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

তবে মেসার্স মর্ডান স্কয়ারের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দরপত্রের পূর্ণাঙ্গ নথি ও অন্যান্য সম্ভাব্য দরদাতার বক্তব্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা এবং বিধিগত অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ।

অভিযোগের বিষয়ে বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. মো. সাইয়েদুর রহমান বলেন, বিশেষ কাউকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে দরপত্রে কোনো শর্ত আরোপ করা হয়নি। তাঁর দাবি, দরপত্রে যা করা হয়েছে, তা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালার মধ্যেই রয়েছে।

তবে অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে সরকারি গেজেটের কপি তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হলেও আরোপিত শর্তগুলো পিপিআরের কোন বিধি বা ধারায় উল্লেখ রয়েছে, তা তিনি দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

দরপত্রের শর্তাবলি ও অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে সিভিল সার্জন বলেন, “আমি একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলে পুরো বিষয়টি বলতে পারব।”

তাঁর এ বক্তব্যের পর দরপত্রে আরোপিত শর্তগুলোর সুনির্দিষ্ট বিধিগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছেন অভিযোগকারী ঠিকাদাররা। তবে দরপত্রের পূর্ণাঙ্গ নথি ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা যাচাই ছাড়া শর্তগুলোকে চূড়ান্তভাবে বিধিবহির্ভূত বলার সুযোগ নেই।

সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি কেনাকাটা সরাসরি জনস্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এ ধরনের ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দরপত্রের শর্ত যদি প্রয়োজনীয়, যৌক্তিক ও বিধিসম্মত হয়, তাহলে তার পক্ষে সুনির্দিষ্ট বিধি ও যুক্তি তুলে ধরা কর্তৃপক্ষের পক্ষে কঠিন হওয়ার কথা নয়। অন্যদিকে, কোনো শর্ত যদি অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রতিযোগিতা সীমিত করে, তাহলে সেটি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত।

এ অবস্থায় বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের দরপত্রে আরোপিত তিনটি শর্তের বিধিগত ভিত্তি, সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা এবং সম্ভাব্য দরদাতাদের অংশগ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশি, অভিযোগকারীদের লিখিত আবেদনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

ফটোকার্ড বানান

নিউজটি ফেসবুকে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

[ramadan_somoysuci]

© All rights reserved © 2025 dailybarishalmukhopatro.com