ইসলামপাড়া-গাবতলা-টিয়াখালী সড়কে ইয়াবা ও ফেনসিডিলের বিস্তারের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস পুলিশের
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:
বরিশাল নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপাড়া-গাবতলা-টিয়াখালী সড়ক এলাকায় ইয়াবা ও ফেনসিডিলের কথিত কারবারকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ ও আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ‘১০০ টাকার মুহুরী’ নামে পরিচিত একটি পরিবারকে ঘিরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা, প্রভাব খাটানো এবং প্রতিবাদকারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়।
স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, পরিবারের প্রধান হিসেবে পরিচিত ওই মুহুরী, তাঁর ছেলে ও জামাতা রাতের আঁধারে এলাকায় মাদকের কারবার বিস্তারে ভূমিকা রাখছেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে ভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি বর্তমানে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিচয় দিচ্ছেন। বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় থেকে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি হত্যা চেষ্টা, হামলা ও নানা ধরনের হুমকি-ধমকির অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন।
স্থানীয়দের দাবি, এসব ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। তবে কিছুদিন পূর্বে দুইজন গণমাধ্যম কর্মীর উপর হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে ১শ মুহুরী পরিবার। ওই গণমাধ্যম কর্মীদের উপর হামলার ঘটনার দিন একজন ব্যক্তিকে মাথায় কুপিয়ে গুরুতরাও তো করে। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশ-মীমাংসার অভাবে তারা মীমাংসিত হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে ক্ষমতা ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ওই আহত ব্যক্তিকে সালিশির মাধ্যমে চুপ করিয়ে দিয়েছে বলে একটি সূত্র প্রকাশ।
স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, মাদক কারবারের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। এরপরও অভিযুক্ত পরিবারের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এখন দেখার বিষয়, স্থানীয়দের উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান, তথ্য-প্রমাণ এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
ইসলামপাড়া-গাবতলা-টিয়াখালী সড়ক এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
মাদক কারবারের সাথে জড়িত ওই ১০০ টাকার মুহুরী পরিবারের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
মাদক কারবারের নেপথ্যের তথ্য, স্থানীয় ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেখতে চোখ রাখুন—দৈনিক বরিশাল মুখপত্রে।