1. admin@dailybarishalmukhopatro.com : admin-barishal :
  2. adminaminalamin@gmail.com : দৈনিক বরিশাল মুখপত্র : দৈনিক বরিশাল মুখপত্র
শিরোনামঃ
মাসিক মাসোয়ারার টাকা নিরবে পেতে ভিন্ন কৌশল করে দুপুরের খাবারের ব‍্যবস্থা করে দিলেন দুর্নীতির বরপুত্র বর্তমান বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা বস্তাভর্তি দুর্নীতির অভিযোগ বরিশালের সাবেক এসপি ওয়াহিদুলের বিরুদ্ধে, মুখ খুললেই ‘চাপ’—প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ভূমি অফিসে বরিশাল জেলা প্রশাসনের অ্যাকশন, অনুপস্থিত দুই কর্মচারী স্ট্যান্ড রিলিজ বরিশালে সেইলর আউটলেটে মাফিয়া সেল অফার অনিয়ম-অব্যবস্থাপনাঃ অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেল শেবাচিমের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী বাবুগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, অস্ত্রের মুখে জিম্মি পরিবারের সদস্যরা বাবুগঞ্জে প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজার অবসরজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা বরিশালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বরিশাল নগরীতে বিসিসির বিশেষ অভিযান কালকিনিতে ৫০ পিস ইয়াবাসহ সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার গুঠিয়া বিএনপি কার্যালয়ে অদ্ভুত সমীকরণ! আ.লীগে আপ্যায়ন, বিএনপিতে কোন্দল-শায়েস্তা

বস্তাভর্তি দুর্নীতির অভিযোগ বরিশালের সাবেক এসপি ওয়াহিদুলের বিরুদ্ধে, মুখ খুললেই ‘চাপ’—প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক✍️
  • প্রকাশিত সময় বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩২ বার পড়েছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

বরিশাল জেলার সাবেক পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, হয়রানিমূলক মামলা এবং তদন্তে প্রভাব বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হতো। এমনকি অর্থের বিনিময়ে প্রভাবশালী আমলাদের ব্যবহার করে অভিযোগ ও সংবাদ বন্ধ করারও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

জুলাই যোদ্ধা এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে।

সাবেক এসপি ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি তারই বিভাগের এসআই মো. আবুল বসারকে ঘিরে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এসআই আবুল বসারের বিরুদ্ধে একটি হয়রানিমূলক মামলা করা হয়। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার এসআই মাজেদুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট জমি সরকারি নিয়মে পরিমাপ করা হলে সম্পত্তিটির মালিকানা এসআই মো. আবুল বসারের পক্ষে থাকার বিষয়টি উঠে আসে। ফলে মামলায় ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ফাইনাল রিপোর্ট দাখিলের উদ্যোগ নেওয়ার পর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাজেদুল ইসলামের ওপর প্রভাব বিস্তার করা হয়। তাকে ভয়ভীতি দেখানো, অন্যত্র বদলির হুমকি এবং প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করে মিথ্যা চার্জশিট দিতে বাধ্য করার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে একটি অডিও কল রেকর্ড থাকার দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। অডিওটির সত্যতা, কণ্ঠস্বর এবং সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সাবেক এসপি ওয়াহিদুল ইসলাম আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও হামলার ঘটনায় বিভিন্নভাবে ভূমিকা রেখেছেন। এ সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ থাকারও দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে ‘রাতের ভোটের কারিগর’ হিসেবে কথিত ১১৬ জন ডিসি-এসপির একটি তালিকায় তার নাম থাকার দাবিও করা হয়েছে। তবে এ তালিকার উৎস, সত্যতা ও সরকারি স্বীকৃতি যাচাই করা জরুরি।

পুলিশ লাইনে ‘বঙ্গবন্ধু মূর্তি ’ নির্মাণের অভিযোগ  রয়েছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে খুশি করতে বরিশাল জেলা পুলিশ লাইনে ‘বঙ্গবন্ধু মুক্তি’ নামে একটি স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সাবেক এসপি ওয়াহিদুল ইসলাম ভূমিকা রাখেন।

অভিযোগকারীরা এটিকে তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে তার ভূমিকার একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

সাবেক এসপি ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে তার নিজ জেলা মাদারীপুরের কালকিনিতে নামে-বেনামে বিপুল সম্পত্তি, একাধিক বাগানবাড়ি এবং ব্যক্তিগত টাকায় টয়োটা হ্যারিয়ার গাড়ি কেনার অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া ঢাকার মোহাম্মদপুরে তার নামে বা বেনামে ফ্ল্যাট, প্লট এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক সম্পদের কথাও অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

তবে এসব সম্পদের মালিকানা, ক্রয়ের অর্থের উৎস এবং তার আয়কর নথির সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, ওয়াহিদুল ইসলামের চাচাতো ভাই আসাদুজ্জামান পলাশ, যিনি সাবেক সহ-সম্পাদক হিসেবে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে, তিনি নাকি সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন।

এ কারণে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তবে পলাশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগেরও স্বাধীন যাচাই এবং তার বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।

এসিল্যান্ডের কাছে মামলা, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলাটি বর্তমানে বরিশাল সদর এসিল্যান্ডের কাছে তদন্তাধীন রয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি—মামলাটির তদন্ত যেন কোনো রাজনৈতিক, প্রশাসনিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবমুক্তভাবে পরিচালিত হয়। একই সঙ্গে সাবেক এসপি ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার নামে বা বেনামে থাকা সম্পদের তথ্য যাচাই করে অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী তা রাষ্ট্রের অনুকূলে নেওয়া হোক।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সাবেক এসপি ওয়াহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানা গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি, সম্পদের হিসাব, মামলার কাগজপত্র, অডিও রেকর্ড এবং তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই করা জরুরি।

প্রশ্ন এখন একটাই—এত অভিযোগের পরও প্রশাসনিকভাবে কার্যকর তদন্ত কেন হচ্ছে না? অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে আনা এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন কি না—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ফটোকার্ড বানান

নিউজটি ফেসবুকে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

[ramadan_somoysuci]

© All rights reserved © 2025 dailybarishalmukhopatro.com