সৈয়দ নুর আহসান (গৌরনদী) বরিশাল প্রতিনিধি: ১৮ মে ২০২৬
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ভুরঘাটা নূর জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তন্নী খান (২২) নামের ওই প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং অভিযুক্ত ক্লিনিকে ভাঙচুর চালান। আজ সোমবার (১৮ মে) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তন্নী খান মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া গ্রামের জিয়া উদ্দিন খানের মেয়ে। তার স্বামী আল আমিন হাওলাদার পেশায় একজন প্রাইভেটকার চালক।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার সকাল ৭টার দিকে প্রসবজনিত কারণে তন্নী খানকে ভুরঘাটার ‘নূর জেনারেল হাসপাতাল’ (নূর ক্লিনিক)-এ ভর্তি করা হয়। সকাল ১০টার দিকে ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. ইশরাত জাহান ঐশি ও ডা. হিমেল মাহমুদ তার অস্ত্রোপচার (সিজার) সম্পন্ন করেন।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের অসাবধানতায় রোগীর শরীরের গুরুত্বপূর্ণ নাড়ি কেটে ফেলা হয়। এতে তন্নীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তন্নীকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে বরিশাল মেডিকেলের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন বলে দাবি স্বজনদের।
নিহতের এক স্বজন জানান: “ডাক্তারদের চরম অবহেলা আর ভুল কাটিংয়ের কারণেই তন্নীর জীবন গেছে। আমরা এই কসাইদের বিচার চাই।”
প্রসূতির মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলে ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভুরঘাটা এলাকায় অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা নূর ক্লিনিকে চড়াও হয়ে ভাঙচুর চালায়।
খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দুই চিকিৎসক ডা. ইশরাত জাহান ঐশি ও ডা. হিমেল মাহমুদ পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্লিনিক এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ক্লিনিকটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ ও তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।