1. admin@dailybarishalmukhopatro.com : admin-barishal :
  2. adminaminalamin@gmail.com : বরিশাল মুখপত্র : বরিশাল মুখপত্র
১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| শুক্রবার| রাত ১০:১৬|
শিরোনামঃ
আগৈলঝাড়ায় ব্রিজ নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের সত্যতা মেলায়, ভেঙে ফেলার নির্দেশ বাবুগঞ্জের মোহনগঞ্জে জারি গান ও বৈশাখী মেলার প্রস্তুতি সম্পন্ন শ্যালিকার ধর্ষণ মামলা থেকে রেহাই পেতে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা: বিএমএসএফের প্রতিবাদ বরিশাল নগরীর পলাশপুরে মোবাইল ফোনে ‘ডিল’, মাদকের জালে যুবসমাজ! অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ভুল চিকিৎসার অভিযোগে মাদারীপুরে রোগীর মৃত্যু, হাসপাতালে ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধ তথ্যমন্ত্রীর সাথে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ: দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ আগৈলঝাড়ায় গাছ ব্যবসায়ীকে মারধর করে টাকা ছিনতাই, হাসপাতালে ভর্তি সাংবাদিকতা নেশা নয় এটি পেশা হিসেবে মর্যাদা দিতে হবে উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভয়াবহ চিকিৎসা ভুল: ৩ বছরের শিশুকে প্রাপ্তবয়স্কের ওষুধ, ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ নবগঠিত ‘জিয়া মঞ্চ” বরিশাল সদর উপজেলা কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

লাইভ বেকারির খাবারে দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি, এছাড়াও স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক✍️
  • প্রকাশিত সময় শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৭৪ বার পড়েছেন

এবি সিদ্দীক ভুইয়া, বিশেষ প্রতিবেদক ;

লাইভ বেকারি বা তাৎক্ষণিক তৈরি বেকারি খাবার (যেমন কেক, পেস্ট্রি, বিস্কুট) তাজা মনে হলেও, এতে উচ্চমাত্রার চিনি, অস্বাস্থ্যকর ট্রান্স ফ্যাট, রিফাইন ময়দা (ময়দা) এবং অনেক সময় কাপড়ের রঙ ও মানহীন উপাদান ব্যবহার করা হয়।এর ফলে স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।এছাড়াও, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরির কারণে পেট খারাপ বা ফুড পয়জনিং হতে পারে।

রাজধানীসহ সারা দেশের বিভাগীয় শহর থেকে শুরু করে জেলা শহর, উপজেলার শহরের অলিগলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়েছে ‘লাইভ বেকারি’ নামে তাৎক্ষণিক খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রির দোকান। কিন্তু এসব দোকানে মানের কোনো নিশ্চয়তা নেই। ভোক্তা টাটকা মনে করে পাউরুটি, বিস্কুট, টোস্ট, কেকসহ পণ্য কিনে খাচ্ছেন, কিন্তু স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার কোনো তদারকি নেই।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘লাইভ বেকারির সংখ্যা এত দ্রুত বেড়েছে যে আমরা এগুলোর হিসাব রাখতে পারছি না। কেউ কোনো ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই উৎপাদন শুরু করছে। আমরা তাদের সচেতন করার চেষ্টা করছি, কিন্তু এতগুলো প্রতিষ্ঠান একবারে বন্ধ করা সম্ভব নয়। আমাদের লোকবলও সীমিত, তাই যতটা কাজ করা দরকার, ততটাই করতে পারছি।’

অল্প জায়গায় স্বল্প পুঁজিতে ব্যবসা গড়া যায় বলে রাজধানীতে লাইভ বেকারির সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে। মুগদা থানাধীন পূর্ব মানিকনগরের ঢোকার মুখ থেকে খালপাড় নতুন রাস্তার মোড় পর্যন্ত সাড়ে ৮০০ মিটার জুড়ে ৫টি লাইভ বেকারি দেখা যায়। শুধু মানিকনগর নয়, রাজধানীর কমলাপুর, মতিঝিল, খিলগাঁও, মালিবাগ, রামপুরা, বনশ্রী, মোহাম্মদপুরসহ প্রায় সব এলাকার বাজার, পাড়া-মহল্লায় শত শত লাইভ বেকারি গড়ে উঠেছে।

ছোট একটি দোকানে ওভেন, মিক্সচার মেশিন, ট্রে টেবিল ও কিছু আসবাব বসিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কেক, বিস্কুট, পাউরুটি, পেটিস, টোস্ট, মিষ্টিসহ নানা খাদ্যপণ্য তৈরি করা হচ্ছে।

ঝিগাতলার সোনালী ব্যাংক সংলগ্ন ‘বেকার্স বে’ লাইভ বেকারি থেকে দুটি চিজ রোল ও একটি চিকেন রোল কিনে ফিরছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা পলাশ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় খাদ্যপণ্য কিনি স্বাদ দেখে। কীভাবে মান যাচাই করব, তা জানি না। যে চিজ রোল আমি ৪০ টাকায় কিনেছি, ভালো কোনো দোকানে গেলে ৭০–৮০ টাকা লাগবে।’

পূর্ব মানিকনগরের খালিস বেকারির মালিক মো. জুবায়ের বলেন, ‘ভালো লাভের আশায় আরেক বেকারির মালিক আমাকে এই ব্যবসায় নামিয়েছে। কিছু টাকা দিয়ে সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছি। দেড় বছর আগে শুরু করেছিলাম, তখন কিছু লাভ হতো। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যে আশপাশে বেকারির সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে, এখন লোকসানে আছি।’

প্রথমে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে কারখানা স্থাপন করতে হয়। তারপর নমুনা পণ্য উৎপাদন করে মান সনদের জন্য বিএসটিআইতে জমা দিতে হয়। এর জন্য প্রয়োজন হয় ট্রেড লাইসেন্স, শিল্প-নকশা বা ট্রেড মার্ক রেজিস্ট্রেশনের সত্যায়িত ফটোকপি, ভ্যাট সনদ, প্রিমিসেস লাইসেন্স, কর্মচারীর স্বাস্থ্য সনদ, পণ্যের মোড়কের নকশার কাগজ। জানাতে হয় কালার, ফ্লেভার, প্রিজারভেটিভ, আর্টিফিশিয়াল সুইটনারসহ পণ্যের উপকরণ। পরীক্ষণের যন্ত্রপাতির তালিকা, কারখানার যন্ত্রপাতি, লে-আউট ও প্রসেস ফ্লো-চার্টও দিতে হয়। এরপর পরিদর্শকরা কারখানা পরিদর্শন করে সন্তুষ্ট হলে মান সনদ দেয়।

কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া মানা হচ্ছে না। অনেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই ব্যবসা শুরু করেন, কেউ নেই। সিংহভাগের কারখানিতে মানসনদ নেই। কারিগরদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ও স্যানিটেশন সনদও নেই।

বুয়েটের ২০২১ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরের ৬৭ শতাংশ পাউরুটিতে নির্ধারিত মানের চেয়ে বেশি পটাশিয়াম ব্রোমেট রয়েছে, যা পাউরুটি ফোলাতে ব্যবহার হয়। এছাড়া বেকারি পণ্যে কাঁচামাল আটার সঙ্গে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাট, কৃত্রিম রং ও সোডিয়াম সাইক্লোমেট ব্যবহৃত হচ্ছে।

রাজধানীতে কতটি লাইভ বেকারি রয়েছে, তা সিটি করপোরেশন বা বিএসটিআই-এর কাছে নেই। বিএসটিআই বলেছে, শত শত বেকারির মধ্যে মাত্র ২৭টির মান সনদ রয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাবিবুল আলম বলেন, ‘এসব ট্রেড লাইসেন্স করপোরেশনের জোনগুলো থেকে দেওয়া হয়। কতটি লাইসেন্স হয়েছে, তা আমাদের কাছে নেই।

বরিশালের অলিগলিতেও ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়েছে ‘লাইভ বেকারি’ বরিশাল সিটি করপোরেশনের কাছেও নেই কোনো তালিকা।

বরিশালে কতটি লাইভ বেকারি রয়েছে, তা সিটি করপোরেশন বা বিএসটিআই-এর কাছে নেই তালিকা । বরিশালের বিএসটিআই কর্মকর্তা বলেছে, শত শত বেকারির মধ্যে মাত্র কয়েকটির সনদ রয়েছে। কিন্তু লাইভ বেকারি সনদ আমরা দেইনি।

লাইভ বেকারি খাবার খাওয়ার প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলো নিচে দেওয়া হলো:

ওজন বৃদ্ধি ও হৃদরোগ: অতিরিক্ত চিনি এবং হাইড্রোজেনেটেড তেল বা ট্রান্স ফ্যাট শরীরের মেদ বাড়ায় এবং হার্টের রোগ তৈরি করে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি: খাবার তৈরির জন্য ব্যবহৃত কৃত্রিম রঙ, কাপড়ের রঙ, এবং উচ্চ তাপমাত্রায় বেকিংয়ের ফলে এক্রিলামাইড (Acrylamide) নামক ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান তৈরি হতে পারে।

ডায়াবেটিস ও লিভারের সমস্যা: অনেক ক্ষেত্রে হাই-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ ব্যবহার করা হয়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায় এবং যকৃতের সমস্যা তৈরি করে।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ: স্থানীয় অনেক লাইভ বেকারি অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি করে, যা পেটের পীড়া বা গুরুতর ফুড পয়জনিংয়ের কারণ হতে পারে।

পুষ্টিহীনতা: এই খাবারগুলোতে প্রয়োজনীয় ফাইবার বা পুষ্টি থাকে না, যা শরীরের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করে।

সতর্কতা: নিয়মিত বা প্রতিদিন বিএসটিআই (BSTI) অনুমোদিত বেকারির খাবার বেছে নেওয়া স্বাস্থ্যকর।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি শফিকুজ্জামান বলেন, মানহীন এসব পণ্যে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। যারা আইন মেনে উৎপাদন করবে না, তাদের ব্যবসা বন্ধ করা উচিত। দু-একটি বন্ধ করলে বাকিগুলোও ঠিক হয়ে যেত।

নিউজটি ফেসবুকে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
রমজান সময়সূচি

আজ ৩০ রমজান

সেহরির শেষ: --

ইফতার শুরু: --

.

Developed by Barishal Host

© All rights reserved © 2025 dailybarishalmukhopatro.com