নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন-বিআরটিসিকে আরও আধুনিক, জনবান্ধব ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব আব্দুল লতিফ মোল্লার নেতৃত্বে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, নতুন পরিবহন সেবা চালু এবং বিআরটিসির নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিআরটিসিকে একটি আধুনিক ও কার্যকর রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে চালু হয়েছে বিশেষ ‘মহিলা পিংক বাস সার্ভিস’। নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টর দিয়ে পরিচালিত এ সেবা রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
শুধু নতুন বাস চালু করেই থেমে নেই বিআরটিসি। নারী বাস সার্ভিসে যুক্ত করা হয়েছে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় পরিচালিত নারী বাস সার্ভিসের ১৪টি রুটে ধাপে ধাপে ডিজিটাল টিকিটিং চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে যাত্রীদের টিকিট সংগ্রহের সময় কমার পাশাপাশি পুরো ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে।
বিআরটিসির আধুনিকায়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নতুন নারী বাস সার্ভিসে ই-টিকিটিংয়ের পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা ও ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিআরটিসির নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কারখানায় আধুনিক দুটি এসি বাস নির্মাণ করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থাটির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিজস্ব কারখানায় বাস নির্মাণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিআরটিসির বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয় দক্ষতা ও কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানটিকে ধীরে ধীরে আরও স্বনির্ভর করে তুলতে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও বিআরটিসি এগিয়ে যাচ্ছে। ঢাকার সড়কে ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস বা ইভি বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি বাস নারীদের জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরিবেশবান্ধব এই পরিবহন ব্যবস্থা চালু হলে রাজধানীর গণপরিবহনে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি শব্দ ও বায়ুদূষণ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার দিকে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
বিআরটিসির নতুন নারী বাস সার্ভিস শুধু যাত্রীসেবা নয়, নারীর কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। নারী চালক ও কন্ডাক্টরদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বাস পরিচালনায় যুক্ত করা হয়েছে।
নারী চালকদের বাস পরিচালনার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের কারিগরি ও মানসিক প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে গণপরিবহন খাতে নারীদের অংশগ্রহণ আরও দৃশ্যমান হয়েছে।
বর্তমান কার্যক্রমের পাশাপাশি বিআরটিসির সেবার পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। নতুন বাস যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী যাত্রীদের জন্য আরও বাস সংযোজন, নতুন রুট চালু এবং পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আধুনিক পরিবহন সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এতে রাজধানীকেন্দ্রিক পরিবহন ব্যবস্থার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাধারণ মানুষও রাষ্ট্রীয় পরিবহন সেবার আওতায় আরও বেশি সুবিধা পাবেন।
দীর্ঘদিন ধরে দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় বিআরটিসির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সময়ের সঙ্গে যাত্রীদের চাহিদা পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। সেই বাস্তবতায় ই-টিকিটিং, সিসিটিভি, ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং, নারী বাস সার্ভিস, নিজস্ব কারখানায় বাস নির্মাণ এবং ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ বিআরটিসির ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের একটি নতুন দিক উন্মোচন করছে।
চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার নেতৃত্বে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারিত হলে বিআরটিসি আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, যাত্রীবান্ধব ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে-এমন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।