নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল বিমানবন্দর থানাধীন রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নের বিলামের পোল এলাকায় পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক প্রবাসীসহ তিন ভাইকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে ‘হামলার নাটক’ সাজানোর অভিযোগ উঠেছে বড় ভাই মোস্তফা ও অপর ভাই ইউনুস হোসেন আকাশের বিরুদ্ধে।
প্রতিপক্ষ দুই ভাই মিলে মোস্তফার স্ত্রী শাহানাজকে মারধরের ভুয়া অভিযোগ তুলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করেছেন বলে স্বজনরা দাবি করেছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বিলামের পোল এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধ আবুল হোসেনের জমিজমা ও দেখাশোনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। প্রবাসী লোকমান, তার ভাই সুমন ও রোমান—এই তিন ভাই বাবা-মায়ের চিকিৎসা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ কারণে মা-বাবা স্বেচ্ছায় তাদের নামে জমি দানপত্র করে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অপর দুই ভাই মোস্তফা ও ইউনুস হোসেন আকাশ জমি নিজেদের নামে লিখে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।
স্বজনদের অভিযোগ, গত ২৩ সেপ্টেম্বর পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঘরে বাকবিতণ্ডা হলেও কোনো প্রকার মারামারির ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু সুমন, রোমান ও প্রবাসী লোকমানকে আইনি ঝামেলায় ফেলতে মোস্তফা ও ইউনুস পূর্বপরিকল্পিতভাবে মোস্তফার স্ত্রী শাহানাজকে শারীরিক নির্যাতনের শিকার দাবি করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করান।
ভুক্তভোগী ছোট ভাই সুমন জানান, প্রায় এক বছর আগে বাবার চিকিৎসার জন্য ধার নেওয়া টাকা ফেরত চাইতে গেলে ভাই ইউনুস হোসেন আকাশ বাবার মাথায় বাঁশ দিয়ে আঘাত করেন। ওই ঘটনায় বৃদ্ধ বাবা আবুল হোসেনের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয় এবং তিনি দ্বিতীয়বারের মতো ব্রেন স্ট্রোক করেন। বর্তমানেও তিনি অসুস্থ অবস্থায় বাসায় আছেন।
বৃদ্ধ বাবা আবুল হোসেন বলেন, আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক জমি লিখে নিতে চেয়েছিল আমার ওপর দুই ছেলে ইউনুস ও মোস্তফা। কথা না শোনায় উল্টো আমার মাথায় আঘাত করে আমাকে রক্তাক্ত করা হয়েছিল।
আমি এখনো কবিরাজি ও ডাক্তারের চিকিৎসায় কোনোমতে বেঁচে আছি। যে তিন ছেলে (সুমন, রোমান ও লোকমান) আমাদের ভরণপোষণ ও চিকিৎসার খরচ চালায়, তাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতেই মোস্তফা ও ইউনুস এই হামলার নাটক সাজিয়ে শাহানাজকে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
মা ফিরোজা বেগম বলেন, আমার পুত্রবধূ শাহানাজকে কেউ মারধর করেনি। যে তিন ছেলে আমাদের দেখাশোনা ও চিকিৎসা করায়, তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে জমি দানপত্র করে দেওয়া হয়েছে। ছেলে মোস্তফা ও ইউনুস আমাদের কোনো খোঁজখবর নেয় না। এখন উল্টো ভালো ছেলেদের ফাঁসাতে তারা চক্রান্ত করছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মোস্তফা জানান, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তার তিন ভাই বাবার কাছ থেকে জমি দানপত্র করিয়ে নিয়েছেন। এই বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ ও আলোচনা করতে গেলে সুমন, রোমান ও লোকমান মিলে তার স্ত্রী শাহানাজকে বেধড়ক মারধর করে।
এমনকি পরবর্তীতে তাকেও মারধর করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে বরিশাল বিমানবন্দর থানার অফিসার্স ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান , ঘটনার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।