বরিশালে কর্মবিরতি ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা এখন শুধু শিক্ষক বা অভিভাবকের বিরোধ নয়; বরং এটি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার অস্থিরতার প্রতিচ্ছবি। বাকেরগঞ্জ উপজেলার ২৭৯টি এবং বরিশাল নগরীর কয়েকটি বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষার সময় শিক্ষকদের কর্মবিরতি শিক্ষা পরিবেশকে চরম অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা ঝুলে থাকা, শিক্ষার্থীদের স্কুলগেটে দাঁড়িয়ে থাকা, অভিভাবকদের সড়ক অবরোধ, এমনকি ধাক্কাধাক্কির ঘটনা,এসব প্রকাশ করেছে সমস্যার গভীরতা। অনেক স্কুলে পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গেলে অভিভাবকরাই পরীক্ষার আয়োজন করেন,এ এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি যা শিক্ষা প্রশাসনের ব্যর্থতার দিকও তুলে ধরেছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ,শিক্ষকদের দাবি থাকতে পারে, কিন্তু পরীক্ষার সময় আন্দোলন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে শিক্ষকরা বলছেন-দীর্ঘদিনের অবহেলা ও গ্রেড–বেতন বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেই কর্মসূচি।
কিন্তু এই দুই পক্ষের দাবির মাঝখানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। পরীক্ষার অনিশ্চয়তা, স্কুলে উত্তেজনা, অভিভাবকের ক্ষোভ-সবকিছু তাদের মানসিক ও শিক্ষাজীবনে অযাচিত চাপ সৃষ্টি করছে।
প্রশাসনের নীরবতা ও ধীর পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এখন জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষক-অভিভাবক-প্রশাসনের ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা ছাড়া সমাধান সম্ভব নয়। একই সঙ্গে শিক্ষকদের বৈধ দাবি স্বীকার করে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অক্ষুণ্ণ রাখার নীতি নির্ধারণ অত্যন্ত জরুরি।
শিক্ষকদের আন্দোলন, অভিভাবকদের ক্ষোভ-সবই সময়সাপেক্ষ; কিন্তু শিশুর ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করে না।
বরিশালের শিক্ষা সংকট আজ আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে—শিক্ষার দায়িত্বে এক মুহূর্ত অবহেলা মানে ভবিষ্যতের ক্ষতি।