বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরহোগলা গ্রামে পুলিশের উপস্থিতিতেই খোরশেদ সিকদার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ঘিরে জনমনে প্রশ্নের ঝড় উঠেছে।
রোববার বিকেলে পূর্ব বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে বসা শালিশ বৈঠক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘর নির্মাণের পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন হামলাকারী খোরশেদ সিকদারকে ঘিরে নির্মমভাবে মারধর করছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত তিন পুলিশ সদস্য বারবার এগিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও হামলাকারীদের থামাতে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে চেয়ার ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয় ওই বৃদ্ধকে।
পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে মেহেন্দিগঞ্জ পৌর বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাওলাদারকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব।
বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। তবে ঘটনার ভিডিও সামনে আসার পর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন মেহেন্দিগঞ্জ থানার এসআই বশির আহমেদ।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভিডিও প্রকাশের পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। পুলিশের উপস্থিতিতে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড কীভাবে ঘটলো—এ প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র।