নিজস্ব প্রতিবেদক:
নিভে গেল এক প্রজ্ঞার দীপশিখা, থেমে গেল এক নির্ভীক কণ্ঠস্বর। বাকেরগঞ্জের সাংবাদিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। দক্ষিণবঙ্গ পত্রিকার সম্পাদক, প্রবীণ ও সম্মানিত সাংবাদিক সাইদুর রহমান শাহীন আজ রবিবার (২৯ মার্চ) ভোর ৭টা ৩৫ মিনিটে উপজেলার ১২ নম্বর রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের ফলাঘর গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
তাঁর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়—এটি বাকেরগঞ্জের সাংবাদিকতা জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর বিদায়ে স্তব্ধ হয়ে গেছে সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সমগ্র সংবাদকর্মী সমাজ।

জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে নিজ বাড়ি ১৩ নম্বর পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খন্দকার বাড়িতে হঠাৎ স্ট্রোক করলে তাঁকে দ্রুত বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ে জয়ী হতে পারলেন না এই বর্ষীয়ান সাংবাদিক।

সাইদুর রহমান শাহীন শুধুমাত্র একজন সম্পাদক ছিলেন না—তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠানের নাম, একটি আদর্শের প্রতিচ্ছবি। তাঁর কলম ছিল সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আপসহীন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিল অগ্নিস্বর। সাংবাদিকতা তাঁর কাছে ছিল না কেবল পেশা—ছিল এক গভীর দায়িত্ববোধ, ছিল সমাজের প্রতি দায়।

বাকেরগঞ্জের সাংবাদিক সমাজে তিনি ছিলেন অভিভাবকসুলভ এক ব্যক্তিত্ব। নতুনদের হাতে কলম তুলে দেওয়া, তাদের সাহস জোগানো এবং সঠিক পথে পরিচালিত করা ছিল তাঁর নিত্যদিনের কাজ। সহকর্মীদের ভাষায়, “তিনি কখনো কাউকে ছোট করে দেখেননি—বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।”
তাঁর এই মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ তাঁকে সকলের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে দিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে যেন বাকেরগঞ্জের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে নিঃশব্দ কান্নায়।
বর্তমান সময়ে যখন সাংবাদিকতা নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন সাইদুর রহমান শাহীনদের মতো নীতিবান ও সাহসী মানুষের উপস্থিতি ছিল আশার আলো। তাঁর জীবন সংগ্রাম, সততা, নৈতিকতা এবং দায়িত্ববোধ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য হয়ে থাকবে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
আজ তিনি নেই—তবে তাঁর আদর্শ আছে, তাঁর শিক্ষা আছে, তাঁর দেখানো পথ আছে। সেই পথ ধরেই এগিয়ে যাবে আগামীর সাংবাদিকতা—এই প্রত্যাশাই সবার।
আল্লাহ মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনকে এই শোক সহ্য করার তৌফিক দান করুন—আমিন।