দেড় বছরের ছোট্ট নন্দিতা। পৃথিবীর আলো দেখার পর থেকেই তার হৃদয়ে বাসা বেঁধেছে জন্মগত হৃদরোগ। বয়স যখন খেলাধুলা আর মায়ের কোলে হাসি-আনন্দে কাটানোর, তখনই জীবনযুদ্ধে লড়তে হচ্ছে তাকে। তার ওপর চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে দিশেহারা অসহায় পরিবারটি।
নন্দিতার বাবা একজন দিনমজুর। দিন এনে দিন খেয়ে চলা এই পরিবারের কাছে মেয়ের চিকিৎসার খরচ যেন পাহাড়সম বোঝা। সন্তানের অসহায়ত্ব আর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে না পারার যন্ত্রণা নন্দিতার মায়ের অশ্রুসিক্ত চোখেই যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
গত বুধবার গণশুনানিতে মায়ের সঙ্গে ছোট্ট নন্দিতাও এসেছিল সহযোগিতার আশায়। বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে এককালীন অনুদানের জন্য কীভাবে আবেদন করতে হয়, তা জানা ছিল না অসহায় মায়ের। বিষয়টি জানতে পেরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বরিশাল আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ সাজ্জাদ পারভেজ নন্দিতার মাকে নিজ কার্যালয়ে নিয়ে প্রয়োজনীয় অনলাইন ফরম পূরণে সহযোগিতা করেন।
এর কয়েকদিন পর প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে আবারও নন্দিতাকে নিয়ে ছুটে আসেন তার মা। চিকিৎসকের পরামর্শে ছোট্ট শিশুটির জন্য প্রয়োজন ছিল একটি নেবুলাইজার মেশিন। কিন্তু দিনমজুর বাবার পক্ষে সেই মেশিন কেনার সামর্থ্য ছিল না।
বিষয়টি জানতে পেরে জেনারেল হাসপাতাল সমাজসেবা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। মানবিক আবেদনে সাড়া দিয়ে অবশেষে আজ জেনারেল হাসপাতাল সমাজসেবা থেকে নন্দিতার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি নেবুলাইজার মেশিন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ।
শুধু চিকিৎসাসামগ্রী দিয়েই থেমে থাকেনি মানবিকতার এই উদ্যোগ। ৮৪ ইভেন্ট গ্রুপের পক্ষ থেকেও নন্দিতার পরিবারের জন্য খাদ্যসহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একদিকে জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত ছোট্ট শিশুর জীবনসংগ্রাম, অন্যদিকে অসহায় বাবা-মায়ের সীমাহীন দুশ্চিন্তা—এর মধ্যেই সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মানবিক সহযোগিতা নন্দিতার পরিবারের মনে জাগিয়েছে নতুন আশার আলো।
ছোট্ট নন্দিতা হয়তো জানে না, তার সুস্থতার জন্য কত মানুষ আজ প্রার্থনা করছেন। তার মায়ের অশ্রুসিক্ত চোখে এখন একটাই আকুতি—মেয়েটা যেন বেঁচে থাকে, সুস্থ হয়ে আবার হাসে।
সবার কাছে ছোট্ট নন্দিতার জন্য দোয়ার আবেদন। মহান আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর তৌফিক আরও মানুষের অন্তরে জাগিয়ে দেন।