নিজস্ব প্রতিবেদক:
ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে নতুন বিধিমালা জারি করেছে সরকার। ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত সরকারি গেজেটে সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল, নিবন্ধন, নবায়ন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চলাচলের সুযোগ থাকবে না। নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মান, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করেই নিবন্ধন নিতে হবে মালিকদের। প্রতিটি ই-রিকশার জন্য থাকবে পৃথক নিবন্ধন নম্বর ও কিউআর কোডযুক্ত নম্বর প্লেট।
গেজেট অনুযায়ী, ই-রিকশার নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। পাশাপাশি গাড়ির সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ বছর। নির্ধারিত আয়ুষ্কাল অতিক্রম করলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধন ও নম্বর প্লেট বাতিলের বিধান রাখা হয়েছে।
গতিসীমার ক্ষেত্রেও দেওয়া হয়েছে নির্দেশনা। সাধারণ সড়কে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫ কিলোমিটার এবং স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় সর্বোচ্চ ১৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে ই-রিকশা।
জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস চলাচলের করিডোর এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সড়কে ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে না। একই সঙ্গে ফুটপাত ব্যবহার করেও চলাচল করা যাবে না। নির্ধারিত লেন ও সড়কের নিয়ম মেনে চলাচল করতে হবে চালকদের।
যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। গাড়ির অনুমোদিত ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী বহন করতে হবে। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন এবং অনুমোদিত ব্যবস্থার বাইরে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের সুযোগ থাকবে না।
নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধনের বিধান রাখা হয়েছে। এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চালানোর ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে।
এ ছাড়া ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জিংয়ের জন্য সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট অথবা নির্ধারিত গ্যারেজ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গাড়ির নিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিষয় বিবেচনায় চার্জিং ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন বিধিমালা বাস্তবায়িত হলে দেশের সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক চলাচলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে বরিশালসহ বিভিন্ন নগরীতে ইজিবাইকের নিবন্ধন, রুট নির্ধারণ, চলাচলের অনুমতি এবং অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
তবে নতুন বিধিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইজিবাইক চালক ও মালিকদের স্বার্থ, কর্মসংস্থান, নিবন্ধন প্রক্রিয়ার সহজলভ্যতা এবং বাস্তবসম্মত রুট ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে নতুন এই বিধিমালা ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি চালক ও মালিকদের জন্য নতুন নিয়মের সূচনা করতে যাচ্ছে।