জীবন তাকে থামাতে চেয়েছিল এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায়, কিন্তু তিনি হার মানেননি। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার সাধারণ যুবক ইসমাইল তালুকদার আজ এক অসাধারণ উদাহরণ। এক পা হারিয়েও দয়া নয়, বরং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীলতার পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।
সাত বছর আগের কথা। তখন ইসমাইল ছিলেন একজন ট্রাক চালকের সহকারী। টগবগে যৌবনে হঠাৎ নেমে আসে অন্ধকার। এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ট্রাকের চাকার নিচে পিষ্ট হয় তার ডান পা। চিকিৎসকরা শেষ পর্যন্ত তার জীবন বাঁচাতে পা-টি কেটে ফেলতে বাধ্য হন। সেই মুহূর্তেই যেন থমকে গিয়েছিল ইসমাইলের স্বাভাবিক পৃথিবী।
পা হারানোর পর অনেকেই যেখানে ভেঙে পড়েন বা ভিক্ষাবৃত্তির মতো পথ বেছে নেন, ইসমাইল সেখানে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তিনি কারো করুণার পাত্র হতে চাননি। কৃত্রিম পা ছাড়াই ক্রাচে ভর দিয়ে শুরু করেন জীবনযুদ্ধ। বর্তমানে তিনি ভাড়ায় **ইজিবাইক চালিয়ে** পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করছেন। তার এই অদম্য জেদ কলাপাড়াবাসীর কাছে এখন এক অনুপ্রেরণার নাম।
ইসমাইল কাজ করছেন ঠিকই, কিন্তু এক পা নিয়ে ইজিবাইক চালানো কিংবা দৈনন্দিন চলাফেরা করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ। একটি **কৃত্রিম পা** ইসমাইলের এই কঠিন সংগ্রামকে অনেকটাই সহজ করে দিতে পারে। তিনি বিশ্বাস করেন, আধুনিক একটি কৃত্রিম পা পেলে তিনি নতুন শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন এবং তার পরিবারের জন্য আরও বেশি অবদান রাখতে পারবেন।
শরীর হার মানলেও, ইচ্ছাশক্তি হার মানে না— ইসমাইল তালুকদার তারই জীবন্ত প্রমাণ।
ইসমাইল আজও অপেক্ষায় আছেন কোনো সহৃদয় ব্যক্তি বা সংস্থার, যারা তার একটি কৃত্রিম পায়ের স্বপ্ন পূরণ করবে। বর্তমানে পঙ্গুত্বকে জয় করে লড়াই চালিয়ে যাওয়া এই যুবক স্বপ্ন দেখেন— একদিন তিনি স্বাভাবিক মানুষের মতো দুপায়ে ভর্য দিয়ে হাঁটবেন, আর তার এই কঠোর জীবনযুদ্ধ কিছুটা হলেও লাঘব হবে।