বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে কুয়াকাটায় রিসোর্ট নির্মাণ প্রকল্পকে ‘অবিবেচক, অস্বচ্ছ ও নগরবাসীর স্বার্থবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে প্রকল্পটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন বরিশাল জেলা শাখা। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ইতোমধ্যে আগামী ছয় মাসের জন্য প্রকল্পের সকল কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকাল ১১টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণসংহতি আন্দোলন বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়কারী দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু। এতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আরিফুর রহমান মিরাজ, ছাত্র ফেডারেশন বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাইদুল ইসলাম শাকিবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিটি কর্পোরেশন ইতোমধ্যে রিসোর্ট নির্মাণের উদ্দেশ্যে প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ জমি ক্রয় করেছে, যার জন্য ব্যয় হয়েছে ১৭ কোটি টাকা। পাশাপাশি দলিল তৈরিতে ব্যয় হয়েছে আরও ৫ কোটি টাকা। অথচ বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মোট দেনা দাঁড়িয়েছে ৩৮৪ কোটি টাকায়—যার মধ্যে ঠিকাদারদের পাওনা ৩০০ কোটি, বিদ্যুৎ বিভাগের ৬৪ কোটি এবং অবসরপ্রাপ্ত ও চাকরিচ্যুত নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের বকেয়া প্রায় ২০ কোটি টাকা।
গণসংহতি আন্দোলন অভিযোগ করে জানায়, সিটি কর্পোরেশন যখন বেতন বৈষম্য, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট, ড্রেনেজ ও পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থার অব্যবস্থা, মশক নিধন কার্যক্রমে ব্যর্থতা এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চরম দুর্বলতার মধ্যে জর্জরিত—তখন বিলাসবহুল রিসোর্ট নির্মাণের উদ্যোগ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। বর্জ্য অপসারণ কর্মীদের সেফটি গিয়ার না থাকায় তারা মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকলেও বরাদ্দের অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে—এ প্রশ্নও তোলেন বক্তারা।
এছাড়া কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট এখনও চালু হয়নি উল্লেখ করে সংগঠনটি জানায়, নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডসহ কয়েকটি এলাকায় সামান্য জোয়ারেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এসব জরুরি সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে রিসোর্ট তৈরিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।
গণসংহতি আন্দোলনের নেতারা জানান, রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ১৭ নভেম্বর প্রকল্পের জন্য জমি ক্রয়সহ সব কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে সংগঠনের নেতারা সাংবাদিকদের অনুরোধ জানিয়ে বলেন—নগরবাসীর ভোগান্তি ও সিটি কর্পোরেশনের বাস্তব সংকটগুলো জাতির সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ; তাদের লেখনীই পারে জনগণের জানার অধিকারকে শক্তিশালী করতে।