বিদায়ের মুহূর্ত সবসময় বেদনায় ভরা। দায়িত্বের ভার নামিয়ে রেখে যখন একজন সরকারি কর্মকর্তা কোনো জেলার মানুষকে বিদায় জানান, তখন সাধারণ মানুষের আবেগও এক সুতোয় গাঁথা হয়ে ওঠে। ঠিক এমন এক আবেগঘন দৃশ্য দেখা গেল বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে, যেখানে বিদায়ী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন স্মৃতিভারাক্রান্ত কণ্ঠে বললেন, “বরিশালের প্রধান সমস্যা কর্মসংস্থান; এটি নিশ্চিত হলে অনেক সংকটই দূর হয়ে যেত।”
রবিবার দুপুরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ের সময় দেলোয়ার হোসেন জানান, বরিশালের উন্নয়ন নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের চিন্তার মূল কেন্দ্রে ছিল ‘কর্মসংস্থান’। তিনি বলেন,
“বরিশালে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে আমি ইতোমধ্যে একটি ইপিজেড স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছি। আশা করি, নতুন জেলা প্রশাসক এটিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। বরিশালের ভবিষ্যৎ কোথাও আটকে নেই,শুধু একটি সুযোগ দরকার।”
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, আমি যখন দায়িত্ব নিয়েছিলাম তখন সময়টা ছিল খুব কঠিন। অনেক বিষয়ে দ্বিধায় থাকতাম,কার সাথে কথা বলবো, কার কাছে যাবো। সবসময় আপনাদের সঙ্গে বসতে পারিনি, কিন্তু আপনাদের সহযোগিতা ছিল নিঃস্বার্থ।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“বরিশালবাসীর মন সত্যিই বড়। আমি যতোটুকু দিতে পেরেছি তার চেয়ে বেশি পেয়েছি আপনাদের কাছ থেকে। আমি আবারও আসতে পারি—নৌ উপদেষ্টার স্টিমারের আমন্ত্রণ আছে। হয়তো সেই স্টিমারেই আবার বরিশালে ফিরবো, আপনাদের মুখগুলো আবার দেখবো।”
আবেগমাখা কণ্ঠে দেলোয়ার হোসেন বলেন,
“বরিশালে আমার সময় ছিল মাত্র চোদ্দ মাস চার দিন। কিছু কাজ করতে পেরেছি, কিছু করতে পারিনি… কিন্তু চেষ্টা ছিল অন্তহীন। যদি কখনো কোনো ভুল করে থাকি, দয়া করে ক্ষমা করবেন।”
এই বাক্যগুলো উচ্চারণের মুহূর্তে সভাকক্ষে এক ধরনের নিস্তব্ধ আবেগ ঝরে পড়ে,একজন জেলার অভিভাবকের বিদায় যেন সবাইকে গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়।
বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির পক্ষ থেকে বিদায়ী জেলা প্রশাসককে স্মারক সম্মাননা প্রদান করা হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ, সাবেক সভাপতি নাছিম উল আলম এবং অন্যান্য সদস্যরা সম্মাননা তুলে দেন বিদায়ী জেলা প্রশাসকের হাতে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি সুশান্ত ঘোষ, নজরুল বিশ্বাস, সাবেক সম্পাদক মিথুন সাহাসহ বরিশালের সাংবাদিক সমাজের অনেকে।
মতবিনিময় সভা শেষ হলেও পরিবেশে রয়ে যায় এক ধরনের মায়া, কৃতজ্ঞতা ও অসমাপ্ত প্রত্যাশার রেশ। দায়িত্বশীলতা, মানবিকতা ও আন্তরিকতার যে ছাপ দেলোয়ার হোসেন রেখে গেলেন বরিশালবাসীর মনে—এ শহর তা ভোলার নয়।
বরিশালের মানুষ আজ বলছে,
“আপনি আমাদের জন্য যতটা করেছেন, তার চেয়েও বেশি মনে রাখবো আপনার মানবিকতা… বিদায়, আবারও দেখা হবে।”