নিজস্ব মন্তব্য | দৈনিক বরিশাল মুখপত্র
বরিশাল জেলা পুলিশের ডি-স্টোর ইনচার্জ এসআই জহিরকে ঘিরে উঠেছে নানা গুরুতর অভিযোগ। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে একই কর্মস্থলে বহাল থাকা, প্রভাবশালী মহলের তদবিরে বদলি ঠেকানো এবং বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রশ্ন উঠেছে, বরিশাল পুলিশ লাইনে এমন কী ‘মধু’ রয়েছে, যার টানে বারবার ফিরে আসেন এসআই জহির?
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মন্ত্রী নানকের তদবিরে বরিশালে আসার পর দীর্ঘ সময় একই স্থানে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। এমনকি পটুয়াখালীতে বদলি করা হলেও পরবর্তীতে আবারও ফিরে আসেন বরিশাল পুলিশ লাইনে। একজন পুলিশ সদস্যের দীর্ঘদিন একই স্থানে দায়িত্ব পালন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষ করে, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে নিয়মনীতি কতটা অনুসরণ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
আরও গুরুতর অভিযোগ, দীর্ঘদিনের কর্মস্থলকে কেন্দ্র করে এসআই জহির গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদ। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা, সম্পদের উৎস এবং দায়িত্ব পালনের সঙ্গে কোনো অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
দৈনিক বরিশাল মুখপত্রের অবস্থান স্পষ্ট—অভিযোগ মানেই অপরাধ প্রমাণ নয়। তবে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুতর অভিযোগ সামনে এলে তা অনুসন্ধান করা এবং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জনসমক্ষে তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব।
আমরা পাঠকদের আশ্বস্ত করতে চাই, দৈনিক বরিশাল মুখপত্র তথ্য-প্রমাণ ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করে না। এসআই জহিরকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান চলছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য, নথিপত্র ও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বিস্তারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।
আমাদের পাঠকদের প্রতি অনুরোধ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলে তা মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাই করুন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও বিবেচনায় নিন।
প্রশ্ন একটাই—দীর্ঘ ১৪ বছর একই কর্মস্থলে বহাল থাকার নেপথ্যে কী? বদলি হয়েও বারবার ফিরে আসার কারণ কী? আর সম্পদের উৎসই বা কী?
এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আমাদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
দৈনিক বরিশাল মুখপত্র—সত্যের সন্ধানে, জনস্বার্থে।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আসছে শিগগিরই…