বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এম জহির উদ্দিন স্বপনকে দায়িত্ব দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্যকে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি করার সরকারি নির্দেৃশনা থাকলেও বরিশাল-৫ আসনের পরিবর্তে অন্য একটি আসনের সংসদ সদস্যকে এ দায়িত্ব দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সরকারি হাসপাতালের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। উপ-সচিব মো. আবু রায়হান মির্জা স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনের স্মারক নম্বর ৪৫.১৫৫.১১৪.০০.০০.০০১.২০১৫.১৫৭।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য। পাশাপাশি সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
তবে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এ নির্দেশনার সঙ্গে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সম্প্রতি পুনর্গঠিত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য এম জহির উদ্দিন স্বপনকে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী শরিফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, এম জহির উদ্দিন স্বপন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। অন্যদিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বরিশাল সদর তথা বরিশাল-৫ নির্বাচনী এলাকার মধ্যে অবস্থিত। এ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, সাবেক হুইপ, সাবেক মেয়র ও জেলা দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ার।
ফলে মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্যকে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি করার নির্দেশনা থাকলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্ষেত্রে বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরওয়ারের সভাপতি হওয়ার কথা—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ নিয়ে বরিশাল সদর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, অন্যান্য সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যদি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্যকে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি করার নীতি অনুসরণ করা হয়, তাহলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণ কী।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, এ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের কোনো পৃথক আদেশ, বিশেষ সিদ্ধান্ত বা প্রশাসনিক ব্যাখ্যা রয়েছে কি না। যদি থেকে থাকে, সেটি কী কারণে এবং কোন বিধানের আওতায় করা হয়েছে—তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।
বিশাল দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা এবং বাস্তবে গঠিত কমিটির মধ্যে এই পার্থক্যের কারণ কী, সেটিই এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।