নিজস্ব প্রতিবেদক:
পটুয়াখালী–বরিশাল–ঢাকা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সাগরদী বাজার সড়ক এখন স্থানীয়দের কাছে ‘গলার কাঁটা’ হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের দুই পাশের সরকারি জমি অবৈধ দখলের কারণে মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কার্যক্রম থমকে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুয়াকাটা থেকে পটুয়াখালী হয়ে বরিশাল হয়ে ঢাকার সঙ্গে সংযোগকারী এই মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে এর অগ্রগতি অসম্পূর্ণ। ইতোমধ্যে নগরীর ১নং সিএন্ডবি পুল থেকে নতুল্লাবাদ সুরভী পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত উন্নয়ন কাজ দৃশ্যমান হলেও আমতলা সড়ক বিভাগ অফিস থেকে রুপাতলী গোলচত্বর পর্যন্ত অংশ রহস্যজনক কারণে অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাস মালিক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, আমতলা থেকে রুপাতলী পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের সরকারি জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে নানা স্থাপনা—দোকানপাট, পাকা ভবন, এমনকি মসজিদ ও মন্দিরও। এতে করে সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সাগরদী এলাকার বাসিন্দা কামাল জামাল বলেন, “আমতলা মোড় থেকে রুপাতলী পর্যন্ত সড়কটি এখন যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য বড় প্রতিবন্ধক। প্রতিদিন যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হয়।”
অভিযোগ রয়েছে, অতীতে সড়ক উন্নয়নকালে কিছু অসাধু ব্যক্তি ও কর্মকর্তার যোগসাজশে সড়কটি সংকুচিত করা হয়। অথচ সড়কের দুই পাশে জেলা পরিষদ ও গণপূর্ত বিভাগের পর্যাপ্ত জমি থাকা সত্ত্বেও তা কাজে লাগানো হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাগরদী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সরকারি জমি দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া আদায় চলছে। একইভাবে সড়কের এক পাশে মন্দির ও অন্য পাশে মসজিদ নির্মাণ করে স্থায়ী দখল নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ সম্পন্ন করা হোক। বিশেষ করে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়রের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষায়, “উন্নয়নের নামে পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে যদি দখলদারদের কাছে সড়ক জিম্মি থাকে, তাহলে জনগণের দুর্ভোগ কবে শেষ হবে?”