নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১ নং চড়ামদ্দী ইউনিয়নের পশ্চিম চড়ামদ্দী এলাকায় পৈত্রিক পুকুরে মাছ চাষকে কেন্দ্র করে দুই দফায় ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারী-পুরুষসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি থমথমে হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঐতিহ্যবাহী খান বাড়ির শরিকানা (এজমালি) পুকুর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। জাহাঙ্গীর খানের ছেলে ছাহিম খানের অভিযোগ, মৃত মোজাম্মেল হোসেন খানের ছেলে হেলাল খান গত দুই বছর ধরে এককভাবে পুকুরটি ভোগদখল করে আসছেন। চলতি মৌসুমে নিজের অংশ অনুযায়ী মাছ চাষ করতে চাইলে হেলাল খান ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বিরোধ চরমে পৌঁছায়।
মহান স্বাধীনতা দিবস (বাংলাদেশ)-এর দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে প্রতিবেশী নাসির খানের ছেলে মেহেদী হাসান পুকুরে গোসল করতে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হেলাল খান ও তার স্ত্রী খাদিজা বেগম মিলে মেহেদীর ওপর হামলা চালান। তাকে জাপটে ধরে বেধড়ক মারধর করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে আহত মেহেদী ও তার পিতা নাসির উদ্দিন আইনি সহায়তার জন্য থানায় গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে দ্বিতীয় দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, হেলাল খানের প্রত্যক্ষ মদদে তার আত্মীয়স্বজন ও সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাহিম খানের পরিবারের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ছাহিম খানের মা এবং প্রতিবেশী নজরুলের স্ত্রী কল্পনা বেগমকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, কল্পনা বেগমের সঙ্গে হেলাল খানের পূর্ব থেকেই একটি নারী নির্যাতন মামলা চলমান রয়েছে, যা এই সংঘর্ষের পেছনে প্রভাব ফেলতে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, হেলাল খান দীর্ঘদিন ধরে শরিকদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে আসছেন এবং প্রায়শই ভয়ভীতি ও জুলুম চালান। তার কর্মকাণ্ডে খান বাড়ির সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।
অন্যদিকে, হেলাল খান সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, প্রতিপক্ষই তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং এতে তার পরিবারের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সমাজসেবক জহিরুল ইসলাম লিটন-এর নির্দেশেই এ হামলা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন জহিরুল ইসলাম লিটন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই। বরং তার নাম জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আহতদের বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হেলাল, খুকুমণি, রেশমা, জান্নাত ও ময়নার গুরুতর কোনো আঘাত না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম সোহেল রানা বলেন, “উভয় পক্ষের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে হেলাল খানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং সাম্প্রতিক সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে খান বাড়ির সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।