নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোডের সামসু মিয়ার গ্রেজ সংলগ্ন মোহাম্মাদ মিজানুর রহমানের ভাড়া বাসার চার তলার একটি ফ্ল্যট থেকে চার কেজি গাজা সহ এক নাজমুন নাহার শিপু নামের এক মহিলাকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
গতকাল রাত আনুমানিক আটটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডিডি সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম নবগ্রাম রোডের শামসু মিয়ার গ্রেজ সংলগ্ন মোহাম্মাদ মিজানুর রহমানের বাসার চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাটে তল্লাশী করে দুইটি প্যাকেটে চার কেজি গাজা পায়।পরে অভিযুক্ত নারী নাজমুন নাহার শিপুকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করলে সাথে সাথে শিপু অসুস্থ হয়ে বেহুশ হয়ে যায়।
পরে ডিএনসির পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম স্থানীয় একজন ডাক্তার এনে সাময়িক চিকিৎসা প্রদান করেন,এবং প্রেসার ও ডায়েবিটিস চেকআপ করে মাত্রা বেশি হওয়ায় এম্বুলেন্স করে শেরই বাংলা মেডিকেলের মহিলা মেডিসিনে ভর্তি করানো হয়।
এ ব্যাপারে ডিডি সিরাজুল ইসলাম জানান,যেহেতু আসামী অসুস্থ তাই তাকে এই মুহুর্তে কিছুই করা যাচ্ছেনা, তাকে আগে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করতে হবে।পরে গ্রেফতার দেখিয়ে মামলা করা হবে।
ফ্ল্যাট মালিকের ছেলে সুয়াদ জানান,গত ১ নভেম্বর ২০২৫ নাজমুন নাহার শিপুর ছেলে গোলাম ফারুক অভি বাসা ভাড়া করেন।অভি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন,
অভি মা এবং দুই খালা এই বাসায় থাকতেন।
এদিকে গত ১৫ ই মার্চ ২০২৫ অভির দুই খালা নিপা এবং অন্তরা ১৬ কেজি গাজা সহ পুলিশের হাতে আটক হয়ে বর্তমানে জেল হাযতে আছেন।
কয়েকদিন যেতে না যেতেই অভির মা নাজমুন নাহার শিপু তার বোনের ব্যাবসা টিকিয়ে রাখতে গাজার চালান কিনে আনেন।কিন্তু ব্যাবসা আর হলোনা,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা বাসায় হাজীর হয়ে তল্লাশী করে চার কেজী গাজার পোটলা উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে গোলাম ফারুক অভির সাথে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে অনেকবার রিন হলেও কল রিসিভ করেন নি,পরে মোবাইল বন্ধ করে রাখেন।
গোলাম ফারুক অভি বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের কুলাকানা গ্রামের মোহাম্মাদ হাবিবুর রহমানের ছেলে।
একই বাসা থেকে বার বার এমন মাদকের চালান আটক হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এই গাজা ব্যাবসায়ী পরিবার ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করেন,যাতে এমন জঘন্য অপরাধ আর কেহ করার সাহস না পায়।