দুলারহাট থানার ঘোষেরহাট ঘাট এলাকা যেন রূপ নিয়েছে মৃত্যুকূপে। ঘোষেরহাট থেকে ছেড়ে আসা এম.ভি. জাকির সম্রাট–৩ লঞ্চের সঙ্গে বরিশাল রুটের অপর একটি যাত্রীবাহী এ্যাডভান্সার–৯ লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষে ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১ জন নারী ও ২ জন পুরুষ। এ ছাড়া ১০ থেকে ১৫ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অপর একটি লঞ্চ হঠাৎ করেই এম.ভি. জাকির সম্রাট–৩ লঞ্চের মাঝখানে সজোরে ধাক্কা দেয়। বিকট শব্দে সংঘর্ষের মুহূর্তে যাত্রীরা আতঙ্কে চিৎকার শুরু করেন। বিশেষ করে লঞ্চটির দ্বিতীয় তলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যেখানে বহু যাত্রী অবস্থান করছিলেন।
সংঘর্ষের তীব্রতায় লঞ্চের একটি অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
অনেক যাত্রী ছিটকে পড়ে পানিতে, কেউ আটকা পড়েন ভেতরে। মুহূর্তেই পুরো এলাকা কান্না, চিৎকার ও আর্তনাদে ভরে ওঠে। স্থানীয় জেলে, নৌযান চালক ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছে।

তবে দুর্ঘটনার পর সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো—কোন লঞ্চটি জাকির সম্রাট–৩-কে ধাক্কা দিয়েছে, সেটি এখনো নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি। দুর্ঘটনার পরপরই অপর লঞ্চটি সরে যাওয়ায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, ঘটনার কারণ ও দায়ী লঞ্চ শনাক্ত করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, নদীপথের ট্রাফিক রেকর্ড ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এদিকে নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। নিহতদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
নদীপথে যাত্রীবাহী লঞ্চের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। অতিরিক্ত গতি, অসাবধানতা ও নৌপথে শৃঙ্খলার অভাবই কি ফের প্রাণ কেড়ে নিল—সেই প্রশ্ন এখন গোটা এলাকাজুড়ে।