বরিশাল নগরীতে সন্ত্রাসের এক ভয়াবহ কালো অধ্যায়ের নাম হয়ে উঠেছে চিহ্নিত অপরাধী রুবেল শরীফ ওরফে ‘নাক কাটা রুবেল’। মাদক, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগে আলোচিত এই সন্ত্রাসীর ছায়াতলে নগরীর বিভিন্ন এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। সর্বশেষ নগরীর রিফিউজি (খালেদাবাদ) কলোনি এলাকায় প্রকাশ্য গুলি বিনিময়ের ঘটনা নতুন করে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে রিফিউজি কলোনির নূরিয়া স্কুলের পেছনের সরদার মঞ্জিল এলাকায় রুবেল শরীফ মোটরসাইকেলে এসে উঁচিয়ে লক্ষ্য করে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আতঙ্কে এলাকাবাসী, থমকে যায় স্বাভাবিক জীবন হঠাৎ গোলাগুলির শব্দে এলাকাবাসী ঘর থেকে বের হতে সাহস পাননি। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে মেঝেতে শুয়ে কিংবা ঘরের আলো নিভিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। শিশু ও নারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকায় সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়েছে, তবে প্রকাশ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা আগে এমনভাবে ঘটেনি।
প্রাথমিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়দের ধারণা, মাদক ব্যবসা ও এলাকা দখলের বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। রুবেল শরীফের নেতৃত্বাধীন একটি বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
চিহ্নিত সন্ত্রাসী রুবেল শরীফের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ। এক সময় গর্ভবতী এক নারীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের ঘটনায় তার নাম ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজত থেকে বেরিয়ে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
গুলির ঘটনার পরপরই পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এলাকায় তল্লাশি চালানো হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসীদের শনাক্তে কাজ চলছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার অভিযান হলেও সন্ত্রাসীরা ধরা না পড়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা দ্রুত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের মাধ্যমে নগরীতে শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
বরিশাল নগরীতে প্রকাশ্য অস্ত্রের মহড়া ও গোলাগুলির এই ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি নয়, বরং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়—এই ‘কালো অধ্যায়’ থামাতে প্রশাসন কতটা কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।