বরিশালের সাংবাদিক আল-আমিন গাজীর একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস অন্তর ছুঁয়ে গেছে। কারণ সেখানে উঠে এসেছে সাংবাদিকতার প্রকৃত চেতনাই, সত্যের পক্ষে থাকা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, এবং নিজের পেশাকে সম্মান করা। সাংবাদিকতা কেবল সংবাদ সংগ্রহ নয়; এটি অবিচল নৈতিকতা, দায়িত্ব ও সাহসের এক অটল প্রতিশ্রুতি।
আমি কারো ব্যক্তিগত বিরোধে নেই। আমার অবস্থান স্পষ্ট-যে সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে অপরাধ করে, আমি তার বিরুদ্ধেই অবস্থান নেব। সেটা সে যে-ই হোক, এমনকি আমি নিজেও যদি ভুল করি, তাহলে আমার বিরুদ্ধেও অবস্থান নিন-এটাই পেশাদার ন্যায়নীতি।
মানুষ আমাকে ভালো বলবে বা খারাপ বলবে-এটি তাদের বিষয়। আমি কারো পেছনে নয়, সামনাসামনি কথা বলতেই স্বচ্ছন্দ। কারণ আমার আছে সাহস, আর আমি সেই সাহসটাকেই কাজে লাগাই। কে আমার বিপদে পাশে থাকবে, আর কে থাকবে না-এসব বিচার করার সময় নেই। সত্য বলার পথে দাঁড়াতে হলে প্রত্যাশার জায়গায় দায়িত্বকেই বড় করে দেখতে হয়।
সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা-এটি রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সবার। যারা দীর্ঘ ১২ বছরের বেশি সময় ধরে এই পেশায় আছি, তারা জানি-সাংবাদিকতা কখনোই ব্যক্তিস্বার্থ সাধনের হাতিয়ার নয়। প্রকৃত সাংবাদিকতা হলো পাঠকের আস্থা অর্জন করা, সমাজের সামনে সত্য তুলে ধরা, এবং পেশার সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখা।
আজ যখন নানা অপপ্রচার, বিভ্রান্তি ও অপরাধ ঢেকে রাখতে সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করা হয়, তখন প্রয়োজন আরও দৃঢ় অবস্থানের। প্রয়োজন সাহসী কণ্ঠ-যে কণ্ঠ বলে, অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা আছি, সত্যের পক্ষে আমরা আছি।
সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষায় যে শক্ত অবস্থান, যে নৈতিক সাহস ও যে দৃঢ়তার প্রয়োজন-তা প্রকাশ পেয়েছে এই বক্তব্যে। আর এই চেতনা থাকলেই সাংবাদিকতা বেঁচে থাকবে, সমাজও উপকৃত হবে।