নিজস্ব প্রতিবেদক ।। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সরঞ্জামাদি চুরির ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় সর্বত্রই তোলপাড় চলছে। আর এই চুরির মূলহোতা হিসেবে জোরেশোরেই উচ্চারিত হচ্ছে শেবাচিমের ভারপ্রাপ্ত স্টোরকিপার মো. জাহিদ ভূঁইয়ার নাম। এরআগেও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়ম এবং সরকারি সম্পদ চুরির অভিযোগ ছিলো ।
গত ৭ সেপ্টেম্বর শেবাচিমের ফরেনসিক ও এ্যানাটমি বিভাগের সামনে অবস্থিত স্টোররুমে সরকারি মালামাল চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনা এবং সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁসের পর টনক নড়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষের। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির শুনানি ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়,২০১০ সালে পিয়ন পদে যোগ দেওয়া জাহিদ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্টোরকিপারের পদ বাগিয়ে নেওয়ার পর থেকেই গড়ে তোলেন দুর্নীতির শক্তিশালী সিন্ডিকেট। কর্মচারীদের পোশাক,স্টেশনারি সরবরাহ থেকে শুরু করে প্রতিটি টেন্ডার এবং ঠিকাদারদের ফাইল আটকে ঘুষ বাণিজ্য ছিল তার নিত্যদিনের রুটিন। এমনকি সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রাকটিক্যাল খাতা কম দামে কিনে স্টোরের আলমারিতে রেখে চড়া মূল্যে বিক্রির মাধ্যমেও হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অঙ্কের অর্থ।
সর্বশেষ গত ৭ সেপ্টেম্বর পুরাতন মালামাল ক্রেতা সুমনকে সঙ্গে নিয়ে স্টোররুম থেকে ভ্যানে করে সিলিং ফ্যান,পিতল ও তামার মূল্যবান সরকারি মালামাল পাচারের সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন জাহিদ। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মাধ্যমে জোর তদবির চালালেও শেষ রক্ষা হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজে চুরির দৃশ্য স্পষ্ট ধরা পড়ার পর বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়।
এ বিষয়ে শেবাচিমের প্রিন্সিপাল ডা. আনোয়ার হোসেন বাবলু গণমাধ্যমকে জানান,সংবাদ প্রকাশের পরই জাহিদকে শোকজ করা হয়েছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সত্যতা প্রমাণিত হলে নিয়ম অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে,কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
সূত্রে জানা গেছে, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং তারিখ এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। তবে তদন্ত ও গণমাধ্যমের নজরদারি এড়াতে অভিযুক্ত জাহিদ ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন পর্যায়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। যেকোনো সময় তাদের বিরুদ্ধে বদলি কিংবা সাময়িক বরখাস্তের (সাসপেন্ড) কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানাগেছে।
মেডিকেল কলেজের মতো একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এমন ন্যাক্কারজনক চুরির মহোৎসব ও দুর্নীতির ঘটনায় সাধারণ কর্মচারী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দুর্নীতিবাজ স্টোরকিপার জাহিদ স্থায়ী বরখাস্তসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির এক সদস্য জানান, তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শীঘ্রই রিপোর্ট প্রদান করা হবে। রিপোর্টে দোষী প্রমানিত হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।