বরিশালের রাজপথে সোমবার গভীর রাতে দেখা যায় এক ভিন্ন দৃশ্য—শত শত মোটরসাইকেলের গর্জন, শ্লোগানে থরথর কাঁপতে থাকা শহরের বাতাস, আর দলীয় পতাকায় মোড়ানো উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীদের ঢল। রাজনৈতিক অস্থিরতার এ সময়ে বরিশাল মহানগরে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের এই শোডাউন যেন আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ও প্রতিবাদের এক বিস্ফোরিত রূপ।
এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন,বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন তালুকদার, সহ-সভাপতি রেজাউল করিম শাকিল, স্বেচ্ছাসেবক দলের মো. লিটন মিরা, যুবদলের মো. শফিক আহমেদ।
রাত ৮টার পর বরিশাল নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে জমতে থাকে মোটরসাইকেলের সারি। তারপর এক প্রচণ্ড গর্জনে শুরু হয় শোডাউন—যেন রাজপথে ‘আমরা আছি’ বলে নিজেদের অস্তিত্বের শক্ত বার্তা ছুড়ে দিল ফ্যাসিস্ট বিরোধী নেতারা।
নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে গণঅধিকার লঙ্ঘন ও সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার রায় তাদের কাছে দীর্ঘদিনের প্রতিরোধের প্রতীকী জয়। রায়কে ঘিরে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তারা এই মিছিল বের করেছেন। তাদের দাবি, “গণমানুষের রক্তের হিসাব আজ রাজপথে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।”
মিছিলের একটি পর্যায়ে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে বলেন,“বরিশালের রাস্তায় রাত যতই গভীর হোক, সত্যের মশাল নিভবে না!
মিছিল বেশ কয়েকটি প্রধান সড়ক অতিক্রম করে শহরের কেন্দ্রে সমবেত হয়। নগরজুড়ে এই শক্তি-প্রদর্শন স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, এই বিক্ষোভ ছিল বরিশালের রাজপথে বিরোধী শক্তির সবচেয়ে চোখে পড়া উপস্থিতি।