ভালো জীবনের আশায় বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন বরিশালের নবীন ফরাজী। কিন্তু সেই স্বপ্নই পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে। দুবাই পৌঁছে বুঝতে পারেন, তিনি এক ভয়ংকর মানবপাচার চক্রের ফাঁদে পড়ে গেছেন। নির্যাতন, বেঁধে রাখা, মুক্তিপণের টাকা—সব কিছুর মধ্য দিয়ে জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার দিনগুলো পার করেছেন তিনি। অবশেষে দেশে ফিরে বিচার চেয়ে মামলা করেন, আর সেই মামলার রায় এসেছে আজ—যা এক নির্মম বাস্তবতার প্রতিফলন।
বরিশালের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সোহেল আহমেদ বুধবার এক ঐতিহাসিক রায়ে মানবপাচারকারী দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। আসামিরা হলেন—লক্ষ্মীপুরের রায়পুরা উপজেলার মোশারেফ হোসেনের ছেলে শাহ ইমরান সাগর (৪৫) এবং হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার আনসার আলীর ছেলে বাচ্চু মিয়া (৩৭)।
রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
আদালত তাদের অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করেন এবং প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এই অর্থ অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, জরিমানার অর্থ আদায় করে তা ভুক্তভোগী নবীন ফরাজীকে প্রদান করতে হবে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী তুহিন মোল্লা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ নবীন ফরাজীকে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দুবাই পাঠান শাহ ইমরান সাগর। কিন্তু সেখানে পৌঁছেই নবীনকে মানবপাচারকারী বাচ্চু মিয়ার কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় নির্যাতনের ভয়াবহ অধ্যায়।
চক্রের সদস্যরা নবীনকে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করে। জীবন বাঁচাতে নবীনের বাবা কষ্টের পাঁচ লাখ টাকা পাঠান। সেই টাকা পাওয়ার পর নবীনকে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে এক প্রবাসীর সহায়তায় দেশে ফিরে এসে তিনি আদালতে মামলা করেন।
২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত শেষ করে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই শিহাবউদ্দিন ওই দুই মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ এ রায় ঘোষণা করা হয়।
এই রায় শুধু নবীনের নয়—বিদেশগামী অসংখ্য স্বপ্নবাজ যুবকের চোখে এক সতর্ক বার্তা।
চাকরির প্রলোভনে জীবন বিক্রি করা নয়, বরং সচেতনতা আর সাহসের পথেই মুক্তি।