স্টাফ রিপোর্টার
বেলাল হত্যা মামলার প্রধান আসামি ট্রলার রিপন ওরফে রিপন রানা বরিশাল নগরীর বিভিন্ন স্থানে ঘুড়ছে প্রকাশ্যে! এ ঘটনায় জনমনে নতুন করে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। নগরবাসী প্রশ্ন তুলছে প্রশাসন কেনো ট্রলার রিপনকে গ্রেফতার করছে না? না কি অদৃশ্য কোন ক্ষমতার জালে আটকে আছে প্রশাসন? ছোট ছোট মামলার আসামি গ্রেফতার হলেও একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি এমন প্রকাশ্যে ঘুরপাক প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে?
সূত্র জানায়, বরিশাল নগরীতে সাংবাদিকতার পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পরিচালিত কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের অভিযোগে উদ্ভূত ৩০ বছর বয়সী বেল্লাল হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো গভীর রহস্যে মোড়া। ঘটনার মূল অভিযুক্ত ট্রলার রিপন ওরফে রিপন রানাকে গ্রেফতার করতে না পারায় জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।
গত বছরে ৩ ডিসেম্বর সকালে নগরীর ১০নং ওয়ার্ডের ভাটারখাল এলাকায় জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ওলিউল্লাহ শাহ মাজার সংলগ্ন একটি মার্কেটের তৃতীয় তলার কক্ষ থেকে দিবাগত রাতে সিসিটিভি ফুটেজ অনুসারে বেল্লালকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যায় চিকিৎসার জন্য। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বিল্লালিত প্রশ্ন করে। তিন ডিসেম্বর সকালে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনার অনুসন্ধান করতে ওই মার্কেটে ৩য় তলায় যায়। সময় ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল হয়। নিহত বেল্লাল ছিলেন বরিশাল সদর উপজেলার পশ্চিম চর আইচা গ্রামের আবদুল হকের ছেলে এবং পেশায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন ও পোড়ার দাগ থাকায় শুরু থেকেই এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয় বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, যে কক্ষ থেকে বেলালকে রাতে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। অনলাইন পোর্টাল ‘আলোকিত সংবাদ ২৪ ডটকম’-এর সম্পাদক-প্রকাশক পরিচয় দেওয়া রিপন রানা ওরফে ট্রলার রিপনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অভিযোগ উঠেছে যে, রিপন রানা সাংবাদিকতার আড়ালে ওই মার্কেটের একাধিক কক্ষ ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ, ব্ল্যাকমেইলিং এবং কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ পরিচালনা করে আসছিলেন।
মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ঘটনার আগের রাতে ওই কক্ষে একাধিক নারী-পুরুষের আনাগোনা ছিল। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ওই রাতে ইয়াবা সেবন ও পার্টির পর বেল্লালের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয় এবং একপর্যায়ে তাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। বেল্লালের শরীরে পাওয়া আঘাত ও পোড়ার চিহ্ন এই অভিযোগকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে। যদিও পুলিশ এখনো কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করেনি, তবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে হত্যার ঘটনায় পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও হত্যার সাথে জড়িত ২ নারীসহ ৩ জনকে আটক করেছে। তবে রিপন আছে ধরাছোঁয়ার বাহিরে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল- মামুন উল ইসলাম বলেন, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। খুব তারাতারি হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত রিপন রানাকে আটক করতে পারবো। সাংবাদিক ভাইদেরসহ সকলের কাছে সহযোগীতা চাচ্ছি। রিপনকে কোথাও দেখা মাত্রই আমাদের জানান।
তবে নিহত বেলালের স্ত্রী বলেন, ট্রলার রিপন পলাতক থেকে তাদের বিভিন্ন মাধ্যমে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। রিপন নগরীর, নাজিরা পোল, কাঠের পোল,ত্রিশ গোডাউন, বেলসপার্ক, বাংলাবাজার, রুপাতলীসহ বেশ কিছু স্থানে দিনে বা রাতে প্রকাশ্যে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। আমাদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
৫ মাস হলেও পুলিশ রিপনকে গ্রেফতার কতে পারে নি। আমরা এবিষয় খুব দ্রুত মানববন্ধন করবো।