বরিশাল শহরের নীরব এক পাড়ায় বসে চোখের পানি সামলাতে পারছিলেন না মেহেরুন্নেছা। স্বল্পশিক্ষিত ও পর্দাশীল এই নারী জীবনের সঞ্চয় জমিয়েছিলেন ভবিষ্যতের নিশ্চিন্ত জীবনের আশায়। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে — অভিযোগ উঠেছে বরিশাল ডাক বিভাগের কর্মচারী আলাউদ্দিন শিকদার ও তার সহযোগী শহিদুলের বিরুদ্ধে, যারা গ্রাহকের ৬৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
🔶 বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই প্রতারণা
মেহেরুন্নেছা জানান, “আমি ব্যাংকে যেতে জানতাম না। তারা বলেছিল আমার নামে একাউন্ট খুলেছে, টাকা নিরাপদে আছে। আমি বিশ্বাস করেছি।”
কর্মচারী আলাউদ্দিন ও শহিদুল নিজেদেরকে পোস্ট অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তার কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে নগদ অর্থ নেন। এমনকি তার ছেলে ও মেয়ের নামেও একাউন্ট খোলার আশ্বাস দেন।
🔶 হাতে লেখা প্রমাণ ও ভয়েস রেকর্ড
ভুক্তভোগীর হাতে রয়েছে আলাউদ্দিনের নিজের হাতে লেখা হিসাবের কাগজ ও ভয়েস রেকর্ড, যেখানে আলাউদ্দিন টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন মেহেরুন্নেছা।
তার ছেলে ইব্রাহিম মুন ও মেয়ে শারীকা মোস্তফা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “আমরা নিজের কানে শুনেছি আলাউদ্দিনের স্বীকারোক্তি।”
🔶 আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি
ইতোমধ্যে ডাক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে লিখিতভাবে আবেদন দিয়েছেন মেহেরুন্নেছা, যাতে আলাউদ্দিন ও তার সহযোগীদের নামে কোনো অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে কি না তা যাচাই করা হয়। তার একটাই চাওয়া — “আমার ৬৮ লাখ টাকা কোথায় গেল, কার হাতে গেল তা যেন সরকার খুঁজে বের করে।”
🔶 ‘বিশ্বাসের দেয়াল ভেঙে গেছে’
স্থানীয়দের ভাষায়, “সরকারি চাকরিজীবী পরিচয় ব্যবহার করে মানুষ ঠকানোর ঘটনা নতুন নয়। বিশ্বাসের দেয়ালটাই ভেঙে যাচ্ছে।”
এদিকে ডাক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
🔶 আলাউদ্দিনের ফোনে প্রতিশ্রুতি, কিন্তু ফেরত নেই টাকা
অভিযুক্ত আলাউদ্দিন শিকদার ফোনে মেহেরুন্নেছাকে আশ্বস্ত করেন, “রবিবার সব টাকা ফেরত দেবেন।”
কিন্তু এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এক টাকাও ফেরত দেননি।
মেহেরুন্নেছার কণ্ঠে হতাশার সুর —
> “টাকা গেছে, ইজ্জতও গেছে। আমি ন্যায়বিচার চাই, যেন আর কোনো নারী এমন প্রতারণার শিকার না হয়।”