বরিশালে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইডস বা এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক বছরে বরিশাল জেলায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ২০ জন এইচআইভি পজিটিভ রোগী, যাদের মধ্যে ১১ জনই শিক্ষার্থী। এই সংখ্যা স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা খাতকে গভীরভাবে চিন্তিত করেছে।
শেবাচিম হাসপাতালের এআরটি (ART) সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. ফারজানা সুলতানা বলেন, এক বছরে ১১ শিক্ষার্থী আক্রান্ত হওয়া আমাদের জন্য অ্যালার্মিং সংকেত। তরুণদের মধ্যে সচেতনতা কম, নিরাপদ যৌন আচরণের অভাব এবং অনেক ক্ষেত্রে গোপনীয়তার কারণে নিয়মিত স্ক্রিনিং হয় না–যা সংক্রমণ বাড়াচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এইচআইভি যে কারও হতে পারে, তবে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে জড়ালে সংক্রমণের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা কর্মসূচি এখন সময়ের দাবি।
গত বছরের তুলনায় বরিশালে নতুন রোগী শনাক্তের হার প্রায় ৩৯ শতাংশ বেশি।
এআরটি বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শনাক্ত রোগীদের একটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণে জড়িত ছিলেন বলে চিকিৎসকদের ধারণা।
শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, এইচআইভি এখন আর শুধু কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর রোগ নয়। নিরীহ ও অজ্ঞাত ব্যক্তিরাও এতে আক্রান্ত হতে পারেন। বরিশালের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরামর্শ এবং কাউন্সেলিং খুবই প্রয়োজন।
সিভিল সার্জন অফিসের এক কর্মকর্তার বক্তব্য, এইচআইভি রোগীর সংখ্যা বাড়লেও আতঙ্কের কিছু নেই। বরং নিয়মিত টেস্ট বাড়ার ফলে আক্রান্তরা দ্রুত শনাক্ত হচ্ছে, যা চিকিৎসার জন্য উপকারী। তবে গোপনীয়তা রক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ কমানো এবং তরুণদের সঠিক তথ্য দেওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন,নিরাপদ যৌন আচরণ সম্পর্কে অজ্ঞতা, সচেতনতার অভাব, নিয়মিত টেস্টে অনীহা, গোপনে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের বৃদ্ধি, তরুণদের মধ্যে তথ্যের অভাব। আরএগুলোই বরিশালসহ সারাদেশে এইডস বিস্তারের প্রধান কারণ।
ডা. ফারজানা সুলতানা আরও বলেন, এইচআইভি আক্রান্ত হলে রোগ লুকিয়ে না রেখে চিকিৎসা শুরু করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দেশে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। সময়মতো চিকিৎসা নিলে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
চিকিৎসকদের মতে, বরিশালে এইডস মোকাবিলায় প্রয়োজন-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা কর্মসূচি, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ চিহ্নিতকরণ, নিয়মিত স্ক্রিনিং ও রোগীদের প্রতি সামাজিক সহমর্মিতা।
বিশেষজ্ঞরা একবাক্যে বলছেন, এইডস সম্পর্কে ভীতি নয়, সচেতনতা বাড়াতে হবে। যত বেশি মানুষ টেস্ট করবে, চিকিৎসা নেবে এবং সতর্ক হবে-তত সহজে বরিশালকে নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে।