রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রভাবের কেন্দ্র বদল—আর সেই সুযোগে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ কর্মজীবনে একাধিকবার রাজনৈতিক পরিচয় বদল, নিয়োগ বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম এবং প্রাতিষ্ঠানিক অপব্যবহারের অভিযোগ এখন প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৫ সালে চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তিনি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, শুরুতে জামায়াতপন্থী পরিচয়ে চাকরিতে প্রবেশ করলেও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিজেকে সরকারঘনিষ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করে প্রশাসনিক সুবিধা আদায় করেন।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন সময়ে প্রভাবশালী মহলের নাম ব্যবহার করে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন করেছেন তিনি। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফান্ড থেকে ভুয়া ও ডুপ্লিকেট ভাউচারের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, টেন্ডার প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রি এবং সেই অর্থের স্বচ্ছ হিসাব না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বিদ্যালয়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছাপানোর ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অস্বচ্ছ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালের বার্ষিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন ছাপার কাজ একই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরীক্ষার সম্মানী বাবদ অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের বিষয়টিও সামনে এসেছে—যা সরকারি নিয়মের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বলে দাবি করা হচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, ক্ষমতাসীন দলের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নতুন রাজনৈতিক বলয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন সময়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, শিক্ষকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভিন্নমত দমনের চেষ্টা এবং প্রতিষ্ঠানকে একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শের প্রভাবে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
তার কর্মজীবনে একাধিকবার শাস্তিমূলক বদলির ঘটনাও রয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর তাকে একাধিক জেলায় বদলি করা হয় বলে দাবি সূত্রগুলোর।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক মো. নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন,আমি যদি এসব অপরাধে জড়িত থাকতাম, তাহলে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পেতাম না। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সরকারি চাকরিতে থেকে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে প্রশাসনিক কাজ করতে হয়-এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল, অভিভাবক ও শিক্ষকদের একটি অংশ এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন প্রয়োজন।